Home জাতীয় ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও আরিফুলের ১১ বছরের জেল

ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও আরিফুলের ১১ বছরের জেল

13

ঢাকা অফিস।।

করোনার ভুয়া রিপোর্টের মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারপারসন ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৮ আসামিকে ১১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন দণ্ডবিধির পৃথক তিন ধারায় এ কারাদণ্ড দিয়েছেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা। রায়ে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় আসামিদের তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে। দণ্ডবিধির ৪৬৬ ধারায় তাদের চার বছরের কারাদণ্ড, চার হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় তাদের চার বছরের কারাদণ্ড, চার হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাভোগ করতে হবে। তিন ধারার শাস্তি একের পর এক চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। অপর দিকে দণ্ডবিধি ১৭০/২৬৯/৪০৬/৪৬৫ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এ ধারাগুলোতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের কোনো সাজা দেয়া হয়নি। এ ধারাগুলোতে খালাস পেয়েছেন তারা।

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ডা. সাবরিনা-আরিফুলসহ অন্য আসামিরা করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে।

রাষ্ট্র যখন নাগরিকের করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার দায়িত্ব নেয়, তখন তারা করোনার ভুয়া পরীক্ষা করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছে। তারা মানুষদের করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দিতো। এজন্য তাদের সাজা দেয়া হলো। এদিকে আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট ডা. সাবরিনার আইনজীবী প্রণব কান্তি ভৌমিক। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এ রায় ত্রুটিপূর্ণ। তিনটি ধারায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাজা দেয়ার কোনো গ্রাউন্ড ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ৬৯ পাতার একটি আর্গুমেন্ট করেছি আদালতে। আমি সুচিন্তিতভাবে বলতে পারি, আমাদের আর্গুমেন্টকে অ্যাপ্রিসিয়েশন করতে আদালত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে এ রায় দিয়েছেন। এই মামলা অনেক বেশি আলোচিত হওয়ায় ডা. সাবরিনাকে সাজা দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, করোনার সময় সরকার যেখানে পরীক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিল, সেখানে এই চক্রটি মানুষের কাছ থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে টাকার বিনিময়ে সনদ বিক্রি করেছিল। আজ তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত রায় দিলো।

আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু এই রায়কে যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানুষের জীবন নিয়ে যারা খেলেছে, ভুয়া সনদ তৈরি করে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এই শাস্তি তাদের প্রাপ্য ছিল। তিনি বলেন, আমরা সব সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছি। তাদের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি। এরপর বিজ্ঞ আদালত একটি সুচিন্তিত রায় দিয়েছেন। কাজেই ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। পরে তাদের আদালতে ওঠানো হয়। ২০২০ সালের ২০শে আগস্ট করোনার নমুনা জালিয়াতির মামলায় সাবরিনা, আরিফুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এ মামলায় ৪০ সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০২০ সালের ২৩শে জুন করোনার নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল, কর্মচারী হুমায়ুন কবির, তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরের দিন ২৪শে জুন হুমায়ুন ও তানজিনা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই বছরের ১২ই জুলাই জাতীয় হৃদ?রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২০ সালের ১৩ই আগস্ট সাবরিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই জালিয়াতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল।