Home আঞ্চলিক আবারও নদী ভাঙনের কবলে কয়রা: ৩ গ্রাম প্লাবিত

আবারও নদী ভাঙনের কবলে কয়রা: ৩ গ্রাম প্লাবিত

54

 

কয়রা(খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার কয়রা উপজেলায় আবারও নদী ভাঙনে রবিবার দুপুরে ৩ গ্রাম প্লাবিত হয়ে চিংড়ীঘের সহ শতাধিক ঘরবাড়ী জোয়রের পানিতে ভাসছে। জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেদকাশি গ্রামে শনিবার রাতে আকস্মিক নদী ভাঙন দেখা দেয় এবং রবিবার সকালে প্রায় ২শ ফুট বেঁড়িবাঁধ নদী গর্ভে ধ্বসে পড়ে। এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে বাঁধের ভিতর দিয়ে রিংবাঁধ দেওয়ার চেষ্ঠা করলে দুপুরের জোয়ারে তা ভেসে গিয়ে অর্ধ শতাধিক চিংড়ীঘের সহ বহু ঘরবাড়ী দুপুর ১ টার মধ্যেই তলিয়ে যায়। এদিকে নতুন করে চলতি বছরে এ উপজেলায় নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই নদী ভাঙন সম্পার্কে স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে ভাঙন শুরুর পূর্বে এখানে বাঁধের সম্মুখে চর ছিল। কিন্তু নদীতে অতিমাত্রায় জোয়ারের পানির স্রোতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ৬০/৭০ ফুট নদীর চর ভেঙ্গে রবিবার সকাল ৮ টার দিকে বেঁড়িবাঁধে চলে আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বেঁড়িবাঁধ নদীর মধ্যে ধ্বসে পড়ে।

এসময় এলাকার শত শত লোক নদী পাড়ে অবস্থান করে এবং বেঁড়ি[বাঁধ ধ্বসে পড়ার দৃশ্য অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করে। এবিষয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক ইউপি সদস্য আছাদুজ্জামান বুলবুল জানান, উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন দক্ষিণ বেদকাশি এবং বহুবার নদী ভাঙনে প্লাবিত হয়েছে কিন্তু এ ধরনের ভাঙন এই প্রথম দেখা। তিনি বলেন, পদ্মাা ও যমুনা নদীর মত এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিধ্বস্ত বেঁড়িবাঁধের সামনে চর থাকায় এখানে ভাঙনের কোন চিন্হ ছিল না, অথচ আকস্মিক এই নদী ভাঙন দেখে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কোন দূর্যোগ ছাড়াই এ ধরনের নদী ভাঙন এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক ব্যক্তি জানায় বিকেলের ভাটায় রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানো না গেলে রাতের জোয়ারে সমগ্র ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারনে পাশ^বর্তী গ্রামের মানুষ স্থানীয় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। এবিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মশিউল আবেদিন জানান, যেখানে নদী ভাঙন দেখা গেছে সেখানে কিছুদিন আগে ঠিকাদার বেঁড়িবাঁধের মাটি ও বস্তা দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, নদীতে পানির স্রোতের কারনে নিচের বালি মাটি সরে যাওয়ায় বিস্তৃর্ন চর ভেঙ্গে বাঁধের তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় আকস্মিক এ নদী ভাঙন। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আজ বিকেলে এবং সোমবার সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হবে।