খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরের ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর গতকাল বৃহস্পতিবার আট লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে তালিকা পাঠানো হয় সীতাকুণ্ড থানায়। এরপর লাশগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দেয়া স্বজনদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে লাশগুলো রাখা আছে। সেখান থেকেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আগুনে পুড়ে লাশগুলো বিকৃত, অধিকাংশ লাশের শুধু দেহাবশেষ আছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া আট লাশের বাইরে চমেক হাসপাতালের মর্গে থাকা আগুনে পোড়া আরও ১৪ লাশের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। এসব লাশের পরিচয় দাবিদারদের স্বজনদের কাছ থেকেও নমুনা নিয়েছে সিআইডি।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আটজন হলেন- বিএম ডিপোর আইসিডি সুপারভাইজার মো. সোবহান, ইলেকট্রিশিয়ান মো. রাসেল, গাড়িচালক শাহজাহান, আক্তার হোসেন ও আবদুল মহি হোসেন, নুসরাত পরিবহনের কাভার্ডভ্যান চালক আবুল হাশেম এবং শারমিন গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চালক বাবুল মিয়া ও সহকারী মো. সাকিব।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব থেকে আটটি লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে পাঠানো হয়েছে। লাশের দাবিদার হিসেবে নমুনা দেওয়া স্বজনদের ডেকে সেগুলো নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাতের মধ্যেই আমরা সব লাশ হস্তান্তর করতে পারব।
গত ৪ জুন দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। এর পর সেখানে কয়েক দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ১০৭ জন। আহত-দগ্ধ অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের অধিকাংশই ডিপো শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিসকর্মী, বিভিন্ন ট্রাক-কভার্ডভ্যানের চালক, হেলপার এবং পুলিশ সদস্য।
সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, মোট ২৪টি লাশের দাবিদার হিসেবে আসা ৪৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ১৪টি লাশের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবে সেগুলোর কাজ চলছে।
অগ্নিকা- ও বিস্ফোরণের পর যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়, তাদের মধ্যে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া ২৪টি লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য ৬ জুন থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছিল সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব। মৃতদেহ থেকে ‘ক্রাইম সিন স্যাম্পল’ ও স্বজনদের কাছ থেকে ‘রেফারেন্স স্যাম্পল’ সংগ্রহ করা হয়। রেফারেন্স স্যাম্পলে মৃতদেহের স্বজনের রক্ত, লালা এবং ক্রাইম সিন স্যাম্পলে মৃতদেহের দাঁত, হাড়, চুল, নখ ও টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এদিকে বিএম ডিপোতে অগ্নিকা- ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় ৮ জুন ওই ডিপোর আটজনকে আসামি করে সীতাকু- থানায় মামলা করে পুলিশ। আসামিরা হলেন- বিএম কন্টেইনার ডিপোর ডিজিএম (অপারেশন) নুরুল আকতার, ম্যানেজার (অ্যাডমিন) খালেদুর রহমান, সহকারী অ্যাডমিন অফিসার আব্বাস উল্লাহ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. নাসির উদ্দিন, সহকারী ব্যবস্থাপক (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) আবদুল আজিজ, কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশনের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, একই বিভাগের নজরুল ইসলাম ও জিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) নাজমুল আকতার খান। তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০৪ (ক) ধারায় ডিপোতে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়।










































