Home আঞ্চলিক মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মী রবিউলকে আনা হলো হাসপাতালে, শ্যালক বাড়িতে

মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মী রবিউলকে আনা হলো হাসপাতালে, শ্যালক বাড়িতে

9

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

করোনা আক্রান্ত যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী রবিউল ইসলামকে (৩৫) মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার শ্যালক করোনা আক্রান্ত সোয়াইব হোসেনকে (২২) নিজ বাড়িতে কেশবপুরের ইমাননগরে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাদের স্থানান্তর করা হয়।

সোয়াইব গত দুইদিন ধরে মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি ছিল। আর রবিউল ইসলামকে ১৪ দিন ধরে কেশবপুরের ইমাননগরে শ^শুর বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়।

এদিকে শনিবার দুপুরে রবিউল ইসলাম ও তার শ্যালক সোয়াইবের নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

চলতি মাসের ১২ তারিখ মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মী রবিউল ইসলামের করোনা ধরা পড়ে। এরপর তিনি শ^শুর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেন। সেখানে শ^শুর, শাশুড়ি, শ্যালক, নানিশাশুড়ি, স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সাথে এক বাড়িতে ছিলেন রবিউল। পরে রবিউলসহ ওই বাড়ির সকলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত ২৩ এপ্রিল রবিউলের দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলাফল করোনা পজেটিভ আসে। একইসাথে তার শ্যালক সোয়াইবের নতুন করে করোনা আক্রান্তের খবর আসে। ওই দিনই সন্ধ্যায় সোয়াইবকে মণিরামপুর হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। উপসর্গবিহীন করোনায় ভুগছেন দশম শ্রেণির ছাত্র সোয়াইব।

এদিকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে সেখানকার করোনা রোগী মণিরামপুর হাসপাতালে আনায় এবং অল্পবয়সী এই যুবককে হাসপাতালের বিচ্ছিন্ন একটি ভবনের নির্জন কক্ষে একা রাখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচনার মুখে শনিবার তাকে কেশবপুরে বাড়িতে পাঠাতে বাধ্য হন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সরেজমিন সোয়াইবের সাথে কথা হলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি সুস্থ আছি। আমার দেহে কোন করোনা উপসর্গ নেই। নির্জন একটি ঘরে রাতে একা থাকতে খুব ভয় হয়েছে। আগে কখনো এভাবে একা থাকিনি। হাসপাতালে আমাকে টেলিভিশন দিতে চেয়েছিলেন কর্র্তৃপক্ষ। আমি নিইনি। নামাজ ও কোরআন পড়ে আমার সময় কেটেছে। আমি আল কোরআনের হাফেজ। হেফজ শেষ করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ছি।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, সিভিল সার্জন স্যারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোয়াইবকে মণিরামপুর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আবার স্যারের নির্দেশেই তাকে কেশবপুরের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলবে। স্বাস্থ্যকর্মী রবিউল ইসলামকে মণিরামপুর হাসপাতালের আইসোলেশনে আনা হয়েছে। আজ শ্যালক-ভগ্নিপতি দুই জনের আবার নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তারা দুইজনই সুস্থ আছেন।

প্রসঙ্গত, করোনা থেকে বাঁচতে বারবার পরিছন্নতার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু মণিরামপুর হাসপাতালের যে ভবনটি করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি মোটেও পরিষ্কার পরিছন্ন নয়। ভবনটির করোনা রোগীর কক্ষের বারান্দায় আবর্জনায় ভরপুর।