Home আঞ্চলিক ‘সাদা সোনা’ যাবে সারাদেশে: খরচ কমবে রপ্তানিতে আসবে নতুন বিনিয়োগ

‘সাদা সোনা’ যাবে সারাদেশে: খরচ কমবে রপ্তানিতে আসবে নতুন বিনিয়োগ

36

স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার লোনাপানির ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ির চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। মোট উৎপাদিত চিংড়ির ৬০ ভাগই হয় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায়। বিদেশে রপ্তানির ৮০ ভাগই এই অঞ্চল থেকে যায়। পদ্মা সেতু চালুর পর চিংড়ি শিল্পে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

রপ্তানিকারকরা জানান, মোংলা বন্দরে জাহাজ সংকট হলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চিংড়ি রপ্তানিতে বেগ পেতে হয়। পদ্মা সেতু হলে এক কনটেইনার চিংড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর খরচ বাঁচবে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া আমদানিকারকরাও সহজে খুলনায় যাতায়াত করতে পারবেন। এর প্রভাব পড়বে রপ্তানিতে।

মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলে গত বছর ৬৫ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে গলদা এবং ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়। উৎপাদন হয় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬২১ টন চিংড়ি। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৬৫৮ টন চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, গত অর্থবছরে তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি হয়। এ অঞ্চলের চিংড়ি সাধারণত মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। কিন্তু অনেক সময় মোংলা বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজ পাওয়া যায় না। তখন চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে চিংড়ি রপ্তানি করতে হয়। তিনি বলেন, এক কনটেইনার চিংড়ি রপ্তানি করতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনটি কাভার্ড ট্রাক লাগে। ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হলে গাড়িতে জেনারেটরে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখতে হয়। এতে দেখা যায়, খুলনা থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাভার্ডভ্যানে ফেরি পার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ভাড়া নেয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সেতু চালু হলে ঘাটে সময় লাগবে না। তখন ৫০ হাজার টাকার মধ্যেই পণ্য বন্দরে পৌঁছানো যাবে। এক কনটেইনার চিংড়ি রপ্তানিতে সাশ্রয় হবে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা।

চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মডার্ন সি ফুডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল হক বলেন, যাতায়াত সমস্যার কারণে বিদেশি ক্রেতারা খুলনায় আসতে চান না। তাঁরা সকালে এসে ফ্যাক্টরি ঘুরে বিকেলেই ফিরতে চান। এত দিন সেটা সম্ভব ছিল না। পদ্মা সেতু চালু হলে এ সমস্যা কমবে।

চিংড়ির চাহিদা বাড়তে থাকায় খুলনায় গড়ে উঠেছে আধানিবিড় পদ্ধতির চিংড়ির খামার। দ্রুত বর্ধনশীল এই খামারে বছরে দু’বার চাষ করা যায়। উৎপাদন হয় দ্বিগুণ।

চিংড়ি বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি তরিকুল্লাহ খান জানান, এক ট্রাক চিংড়ি বরফ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে নিতে ঘাটের ঘুষ ও বরফে খরচ বাড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সেতু চালু হলে এই খরচ কমে যাবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট থেকে প্রতিদিন ১৪০ টন মাছ সারাদেশে যায়। পরিবহন ব্যয় কমলে মুনাফার পরিমাণ বাড়বে, যার সুফল পাবেন মৎস্য চাষিরা।