মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি //
দুই বছর ধরে গলায় শিকল পরিয়ে আটকে রাখা দুইটি বানর উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কালিকাবাড়ী এলাকার অস্থায়ী বেদে পল্লী থেকে বানর দুইটি উদ্ধার করেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান। তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জের কালিকাবাড়ী এলাকার ডাঃ খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন মাঠে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন দলবদ্ধ বেদে পরিবার। বেদে পল্লীর সরদার আঃ আলী দীর্ঘ দুই বছর ধরে দুইটি বানরের গলায় লোহার শিকল পরিয়ে আটকে রেখে খেলা দেখিয়ে আসছিলেন। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে খোলা জায়গায় বানর দুইটি বেঁধে রাখায় বন্যপ্রাণী দুইটি ভিজে ও ক্ষুধায় চেচামেচি করতে থাকে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বানর দুইটির বেহাল দশা দেখে এবং চেচামেচিতে স্থানীয়রা কষ্ট অনুভব করে বনবিভাগকে খবর দেয়। বনবিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বানর দুইটির খবর পাওয়ার পর জিউধারা ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহানকে তা সেখান থেকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক সোমবার বিকেল বিকেল ৪টার দিকে জিউধারা ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান সঙ্গীয় বনপ্রহরীদের নিয়ে সেখানে অভিযানে যান। সেখানে অভিযানে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। কারণ বেদে সরদার আঃ আলী বানর দুইটিকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। 
আঃ আলী অভিযানকারীদের বলেন, এই বানর দিয়ে আমরা খেলা দেখাইও আয় করি। এটা কোনভাবেই দিবো না, নিতে গেলে আপনাদের অনেক ক্ষতি হবে বলে ভয়ভীতি দেখান। তারপরও অভিযানকারীরা যখন বানর দুইটি উদ্ধারে এগিয়ে যান তখন বেদে পল্লীর নারী-পুরুষের তাতে বাঁধা দেন। শুধু বাঁধাই নয়, বান-যাদু-ঠুঠার ভয়ও দেখান তাদেরকে। এছাড়া বীন (বাঁশি) বাজিয়ে বিষাক্ত সাপ এনেও ভয়ভীতি দেখান অভিযানকারীদের। অবশেষে এত কিছুর মোকাবলো করেই বানর দুইটি উদ্ধার করেন বনবিভাগ। বন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান বলেন, বানর দুইটিকে শিকল বন্ধী করে খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে আসছিলো বেদে আঃ আলী। তার বাড়ী ঢাকার বিক্রমপুরে। তিনি আরো বলেন, বানর দুইটি ষ্টেশনে রেখে নার্সিং করা হচ্ছে। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে ও ক্ষুধায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই দুই তিন দিন নার্সিংয়ের পর বানর দুইটি বনে ছেড়ে দেয়া হবে।










































