সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥
সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫ টা। হঠাৎ পূব আকাশে ঘন কালো মেঘ। মূহুর্তে¡র মধ্যেই চারপাশে নেমে এলো কালো ঘন অন্ধ্যকার। দৃশ্যটা ছিল রাতের মতই। এরপর শুরু হলো জোরালো ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিও। ঝড় বৃষ্টি বেশি সময়ের স্থায়ী না হলেও তা আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ মিনিটের মত হবে। তবে অল্প সময়ের প্রবল গতির এ ঝড়ে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ক্ষয়ক্ষতি বেশি বৈ কম নয়। যার তান্ডবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জসহ জেলার প্রায় সব অঞ্চলেই চলেছে এক ধবংসলীলা। আচমকা এ ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি,গাছপালা ও উঠতি ফসলের ক্ষতি ব্যাপক। অপরদিকে মধুমাস জ্যৈষ্টের নানা রকমের ফল আম, জাম,কাঁঠাল, লিচু ঝরে পড়েছে। আর নাবি বোরোর ক্ষেতগুলোর ধান পুনরায় ঝড়োবৃষ্টির কবলে পড়ে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকার অবস্থা। এমনটাই ছিল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জসহ অধিকাংশ অঞ্চলের ঝড়ের তান্ডবলীলা।
সরেজমিনে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম ও মাঠে গেলে নজরে আসে, ঝড়ের ক্ষতির দৃশ্য। গ্রামের পর গ্রামের বড় বড় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অনেক পোল উপড়ে রাস্তার ওপর দুমড়ে মুচড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে ফেলেছে অনেক দুরে দুরে। সবজি ক্ষেতের বান মুখ থুবড়ে পড়েছে। উঠতি ফসলের ক্ষতি অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। মৌসুমী ফলচাষীদের ক্ষতিতে বুঝ আসছেনা নিজেদের। আর নাবি বোরো ধানের পুনরায় ক্ষতি কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার মত অবস্থা। সবমিলিয়ে শনিবারের এ ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠার নয়।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার ভোরের দিকে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বৃষ্টির সাথে শুরু হয় প্রচন্ড ঝড়। এতে কালীগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুর, রঘুনাথপুর, পিরোজপুর ও খোসালপুর, বেলাট , বারোবাজার সাদিকপুর, সাতগাছিয়া, নিয়ামত ইউনিয়নের , বলরামপুর, ভোলপাড়া, কোলা, পারখালকুরা, খড়িকাডাঙ্গা, কামালহাট, বেথুলী, সাইটবাড়িয়া, মনোহরপুর, রায়গ্রাম ইউনিয়নের মেগুরখির্দ্দা, দুলারমুন্দিয়া, একারপুর জটারপাড়া ও কালীগঞ্জ পৌর এলাকার খয়েরতলা,বাকুলিয়া, কাশিপুর, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বেশিভাগ গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি। বিদ্যুতের পোল ও বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। তবে বারোবাজারের সাদিকপুর সাতগাছিয়া গ্রামের মধ্যের অনেকগুলো বৈদ্যুতিক পোল উপড়ে ভেঙে গেছে। সাতগাছিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমান ঝড়ে কাঁচা ঘর চাপা পড়ে মারাত্বক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইভাবে জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলা জোড়াদহ, মালিপাড়া, তৈলটুপিসহ কয়েকটি গ্রামের পানবরজ ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কালীগঞ্জের রাখালগাছি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে আমাগের সব শ্যাষ করে দিয়ে গেছে। গাছ-পালা ভাঙ্গে গেছে। কারেন্টের পোল ভাঙ্গে গেছে। রাস্তা বন্ধ ছিলো। আমাগের ম্যালা ক্ষতি হয়েছে।
পিরোজপুর গ্রামে আব্দুস সাত্তার বলেন, সকালে হঠাৎ করে খুব ঝড় শুরু হয়। এর আগে আম্পানের সময় যে ঝড় হয়েছিল। তেমন ঝড় আজকে হয়েছে। আমাগের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে। আম বাগান, লিচু বাগান, কলা বাগানের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে জেলার শৈলকুপা উপজেলার কুলচারা গ্রামে বজ্রপাতে স্বামী আহত ও স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সকালে তারা দু’জনে বাড়ির পাশের মাঠে বেগুন তুলতে যায়। পরে ঝড় থামার পরে স্থানীয়রা মাঠে গিয়ে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রুপসী খাতুনকে মৃত ঘোষনা করে। আহত গোলাম নবীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে আশরাফুল ইসলাম নামের এক কৃষকের গোয়ালের দুটি তরতাজা মহিষ মারা গেছে।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রথীন্দ্রনাথ বলেন, ঝড়ে ৩৩ টি বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গেছে। তাছাড়া ৩৩ কেভি লাইনের উপর গাছ পড়েছে আর তার ছিড়ে গেছে। যে কারনে সারাজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ ভোর থেকেই সারাদিন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সব স্থানেই মেরামতের কাজ চলছে। সঠিক সময় বলা সম্ভব না তবে শীঘ্রই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম জানান, জেলাব্যাপি অস্বাভাবিক ঝড় বৃষ্টি হয়েছে ,ক্ষতির পরিমানও ব্যাপক। বেশি ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের উপরি মহলে পাঠানো হবে।










































