Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

8

কপিলমুনি বাজার পরিদর্শনে ইউএনও
স্টাফ রিপোর্টার, কপিলমুনি ঃ
কপিলমুনি হাটবাজার পরিদর্শন করেছেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না। রোববার সকালে আকস্মিক এ পরিদর্শনে আসেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সমাজিক দুরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে কেনাবেচার জন্য সপ্তাহে দু’দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার কপিলমুনি পাইকারী কাচাঁমাল হাটের স্থান পরিবর্তন করে অস্থায়ী ভাবে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির মাঠে বসানো হয়েছে। বিদ্যালয় মাঠে পাইকারী এ বাজার পরিদর্শন করেন নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না। এসময় পাইকারী কাচাঁমাল ব্যবসায়ীদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কেনা-বেচার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে সাথে ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাতুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দ্দার, ফাঁড়ি ইনর্চাজ (পুলিশ পরিদর্শক) সঞ্জয় দাশ, কপিলমুনি ভূমি নায়েব জাকির হোসেন। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পত্রিকা পরিবেশক সুকুমার, মোমিন গাইন, কামরুলসহ অন্য পেশার আরো ৪ জনের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে অহেতুক দোকান খোলা রাখায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা।

কেশবপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা সেলিম খানের অর্থায়নে খাদ্য বিতরণ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে কর্মহীন অতিদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার বিকালে পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে কর্মহীন অতিদরিদ্রদের বাড়িতে যেয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য (আটা) বিতরণ করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সেলিম খান।
ইতিপূর্বে কেশবপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সেলিম খান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে নিজস্ব তহবিল থেকে অতিদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিলেন। তাছাড়া তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনামূল কার্যক্রমের পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করেছেন।

কেশবপুরে ৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
সরকারী নির্দেশনা না মানায় কেশবপুরে মটরসাইকেল চালক-সহ ৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান নির্বাহী ক্ষমতাবলে শনিবার সকালে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানাদেশ প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসের পেশকার বিশ্বজিৎ রায় জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকালে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে কেশবপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শন করেন। এসময় সরকারী নির্দেশনা না মেনে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তাদের দোকান খুলা রেখে জনসমাগমের সৃষ্টি করার দায়ে ৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন।
জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন-কেশবপুর শহরের চায়ের দোকান্দার আতিয়ারকে ৫শ, মঙ্গলকোট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে ৫শ, ইলেক্ট্রোনিকের দোকান্দার আক্তার হুসাইনকে ৫শ, আগরহাটি-ভাইনা বাজারের ইলেক্ট্রোনিকের দোকান্দার আফসার আলীকে ৫শ, কলাগাছি বাজারের ইলেক্ট্রোনিক দোকান্দার সোহেল রানা ১ হাজার, তৌহিদুজ্জামানকে ১হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া বাউশালা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনকে (মটরসাইকেল চালক) ২শ ও কুসুলদিয়া গ্রামের হাসানুজ্জামানকে(মটরসাইকেলচালক) ২শ টাকা জরিমানা করেন।

কেশবপুরে শাহীন চাকলাদারের পক্ষে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের অর্থায়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুর পৌরসভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে কর্মহীন পৌরসভার ৩ শত ৭০ জন ভ্যান চালককে যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পক্ষে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। শনিবার বিকালে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নিজস্ব অর্থায়নে কর্মহীন পৌরসভার ৩ শত ৭০ জন ভ্যান চালককে শাহীন চাকলাদারের পক্ষে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। উক্ত খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব মোশারফ হোসেন, বাজার পরিদর্শক মিজানুর রহমান, উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর মফিজুর রহমান খান, পৌর আওয়ামী লীগনেতা হাবিবুর রহমান, পৌর জাতীয় শ্রমিকলীগ নেতা কামাল হোসেন খান, নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।
উল্লেখ্য কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে অসহায় ও কর্মহীন পৌরবাসীকে খাদ্য সহায়তা-সহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম। তিনি পৌরসভা ৯ টি কমিটি গঠন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবাণু নাশক স্প্রে, ক্ষারযুক্ত জীবাণুনাশক সাবান ও মাস্ক বিতরণ করেছেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়য়ে গণসংযোগ, মাইকিং ও ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারীভাবে প্রাপ্ত ৮ টন চাউলের সাথে পৌরসভার অর্থায়নে ডাউল, তৈল, লবন-সহ খাদ্য সমামগ্রী পৌরবাসির মাঝে বিতরণ করেছেন। পৌর সভার নিজস্ব অর্থায়নে ৬ শত পরিবারের মাঝে চাউল, ডাউল, আলু, পেয়াজ, লবণ, তৈল-সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার প্রদত্ত ৪ শত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীর সাথে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে আরো ৩ শত ১৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শাহীন চাকলাদার প্রদত্ত ১ হাজার ১ শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌরবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রাতের আধারে কর্মহীন মধ্যবৃত্ত পরিবারের মাঝেও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যহত রেখেছেন। তাছাড়া পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম লকডাউনে কর্মহীন মধ্যবৃত্ত শত শত মানুষের মাঝে নগদ ৫শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকা বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

কেশবপুরে অতিদরিদ্রদের মাঝে বুড়ীহাটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লগডাউনে কর্মহীন অতিদরিদ্রদের মাঝে বুড়ীহাটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুড়িহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শনিবার বিকালে অতিদরিদ্র ৩০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন বুড়ীহাটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপের সভাপতি জাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ, অর্থ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সদস্য আনিসুর রহমান, নূরুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, আবু হোসেন, হেলাল হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রমুখ। স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপের উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম অপুর সার্বিক সহযোগিতায় উক্ত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ফকিরহাটে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেষ্টার ও রিপার মেশিন বিতরণ
ফকিরহাট প্রতিনিধি
করোনা দুর্যোগের কারনে ছুটি থাকলেও কার্যক্রম থেমে নেই ফকিরহাট উপজেলা কৃষি বিভাগের। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে রবিবার দুপুর ১২টায় কৃষকদের মাঝে ১টি হারভেষ্টার ও ২টি রিপার মেশিন বিতরণ করেন। শ্রমিকের স্বল্পতায় যাহাতে কৃষকদের কোন সমস্যা না হয় সে জন্য ধান কর্তন ও ধান মাড়াই এর জন্য উক্ত মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেশিন বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাতের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ পারভীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাহিদ সুজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তহুরা খানম, ইউপি চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, মোঃ রেজাউল করিম ফকির, মোঃ ইউনুস আলী শেখ, এ্যাডঃ হীটলার গোলদার, উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন কুমার সেন, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মন্ডল, মোঃ বিল্লাল হোসেন, বিপুল কুমার মন্ডল ও দেবদাশ বালা প্রমূখ।

ফকিরহাটে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ন স্ট্যাটার্স দেয়ায় যুবক আটক
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ন স্ট্যাটার্স দেয়ার অপরাধে মধু কুন্ডু নামের এক যুবককে আটক করেছেন মডেল থানা পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জানাযাকে কেন্দ্র করে আটককৃত যুবক তার ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটার্স দেয়। বিষয়টি ফকিরহাট ওলামা পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শাখার নের্তৃবৃন্দ সহ স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও মডেল থানা পুলিশ অবগত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শাহানাজ পারভীন ও মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ মোঃ খায়রুল আনাম এর হস্তক্ষেপে যুবক মুধু কুন্ডকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

করোনা মোকাবেলায় সাতক্ষীরায় প্রতিদিন চার শতাধিক কর্মহীন দঃস্থ মানুষের মাঝে দুপুরের খাদ্য বিতরন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাতক্ষীরায় কর্মহীন অসহায় ও দঃস্থ মানুষকে ঘরে রাখতে প্রতিদিন চার শতাধিক পরিবারের মাঝে দুপুরের খাদ্য বিতরন করছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরা ও জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে তারা এ খাদ্য বিতরন করছেন।
আগামী ২৪ এপ্রিল পবিত্র রমজানের আগের দিন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরার সম্পাদক ও ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমাস মাসুম। তিনি আরো জানান, রমজান মাসে তাদের নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে তার এই খাদ্য কর্মসুচিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহরের পলাশপোল এলাকায় যেখানে এই খাদ্য রান্না করা হয় সেখানে পরিদর্শন করেছেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা+কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

শ্রমিক সংকটে বাগেরহাটে সেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে বাম ব্রিগেড
মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট .
বাগেরহাটে ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিক সংকটে সেচ্ছাশ্রমে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে বাম ব্রিগেড। রোববার সকালে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী এলাকার কৃষকদের আবাদ করা পাকা বোরো ধান কেটে দেয়ার মধ্যে দিয়ে তাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়। সিপিবি, কৃষক ও ক্ষেতমজুর সমিতি, ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের সংগঠকরা সেচ্ছাশ্রমে জমি মালিকদের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন। তারা হাড়িখালি মৌজার সব জমি মালিকদের মাঠের পাকা ধান সেচ্ছাশ্রমে কেটে দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
সিপিবির বাগেরহাট জেলা সাধারণ সম্পাদক ফররুখ হাসান জুয়েল বলেন, স্বাভাবিক সময়েই কৃষক ধান কাটার শ্রমিক সংকটে থাকেন, করোনা সংকটের কারনে এবার এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। করোনার কারনে অন্য এলাকা থেকে এই সময়ে শ্রমিক আনাও হবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা সেচ্ছাশ্রমে জমি মালিকদের মাঠে পেকে যাওয়া ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আজ আমরা শুরু করলাম। আমাদের সাধ্য অনুযায়ি চেষ্টা করব। সরকার যেন কৃষকের ধান সংরক্ষণ ও ধানের নায্যমূল্য নিশ্চিত করে সেই দাবিও জানাচ্ছি। অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই নেতা।
বাগেরহাট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফররুখ হাসান জুয়েল, সদস্য জাহিদুল ইসলাম যাদু, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য বেলাল হোসাইন বিদ্যা, জেলা শাখার সদস্য দেবব্রত দাস পলাশ, শুভজিৎ দে, যুব ইউনিয়ন সদস্য রুমান মাহমুদ, তানভীর আলী, সঞ্জয় কুমার দে অপু, তপন কুমার দাস প্রমূখ ধান কাটায় অংশ নেন।

বাগেরহাটে রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩’হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাতে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরবন্দি কর্মহীন শ্রমজীবি অসহায় মানুষের পাশে দাড়ালো বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রামপাল ও মোংলা উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়নের তিন হাজার অসহায় পরিবারকে ত্রাণ সহয়তা প্রদান করা হয়। শনিবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সামাজিক দুরত্ব মেনেই বিভিন্ন ইউনিয়নের অসহায় মানুষের মাঝে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
বিআইএফপিসিএল’র ত্রাণ সামগ্রীর হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে পনের দিনের খাদ্য সামগ্রী হিসেবে ১০কেজি চাল, ২কেজি আলু, ১কেজি ডাল, ১কেজি পেয়াজ, ১কেজি পেয়াজ, ১কেজি তেল, ১কেজি লবন ও ১টি করে স্যাবলন সাবান বিতরণ করা হয়। এর আগেও বিআইএফপিসিএল’র পক্ষ থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রামপাল ও মোংলার বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণকালে রামপাল পাওয়ার প্লান্টের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো.রেজাউল করিম, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন, পাওয়ার প্লান্টের ডেপুটি ম্যানেজার (এইচ আর) তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোড়েলগঞ্জে খেয়ামাঝি ও নরসুন্দর শতাধিক পরিবার পেলেন খাদ্যসহায়তা
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর দেওয়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া শতাধিক খেয়া মাঝি ও নরসুন্দর পরিবার পেলেন খাদ্য সহায়তা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী শুভাংকর মন্ডল, মোড়েলগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
রোববার বিকেলে খাদ্যগুদাম এলাকায় নরসুন্দর সমিতির ৪৬, সোলমবাড়িয়া খেয়া মাঝি সমিতি ও ফেরীঘাট খেয়া মাঝি ২৭, বারইখালী ফেরীঘাট খেয়া মাঝি ৭ জন এবং সানকিভাঙ্গা খেয়া মাঝির ২০ সদস্যর মোট ১০০ জনের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে এ চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মহীন হয়ে পড়া প্রতিটি শ্রেনী পেশার মানুষ খাদ্য সহায়তা পাবেন। সকলে নিজ গৃহে অবস্থান করে করোনা প্রতিরোধে সকলেই সটেতন হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী’র জন্য আপনারা দোয়া করবেন। #

মোড়েলগঞ্জে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ট্রাকে করে খোলাবাজারে ডাল, চিনি ও তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পণ্য বিক্রয় পয়েন্টে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন দোকানপাট বন্ধ থাকায় ন্যায্যমূল্যের পণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
প্রথমদিনে রবিবার সকালে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু করে। এ সময় নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান, টিসিবি ডিলার জিয়াউল আহসান, নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জানাগেছে, ট্রাক সেলের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৩০০ কেজি মসুর ডাল, ২ হাজার কেজি চিনি ও দুই হাজার লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৬০০ কেজি ছোলাবুডের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। চিনি ও ডাল প্রতিকেজি ৫০ টাকা এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা দর নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ এক কেজি ডাল, চার কেজি চিনি এবং পাঁচ লিটার তেল কিনতে পারবেন। সরকার বরাদ্দ দিলে আসছে রমজান মাসেও তিনি টিসিবির এ পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকার খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রমজান মাস পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু থাকবে। সঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ এবং করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।

মোড়েলগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার উদ্যোগে ৩৫০ পরিবার পেলেন খাদ্যসামগ্রী
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউনুছ সরদারের নিজ উদ্যোগে ৩৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।
রোরবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বারইখালীর ২নং ওয়ার্ডে এমপি পাড়ায় নিজ বাড়িতে বসে তার নিজ অর্থায়নে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন দিনমজুর পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু ও সাবান বিতরণ করেন। এ খাদ্যসামগ্রী বিতরনকালে উপস্থিত ছিলেন মোরেলগঞ্জ প্রেস কাব সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন, সহ সভাপতি গনেশ পাল, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক এম.পলাশ শরীফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক খোকন ও এইচ এম শহিদুল ইসলাম। এ সময় মো. ইউনুছ সরদার বলেন, করোনা ভাইরাসে এ খাদ্যসামগ্রী দেতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনি করি। ভবিষ্যতে যেনো আরো বেশী বেশী দিতে পারি আপনারা দোয়া করবেন। পাশাপাশি করোনা থেকে সকলকে সচেতন ও ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছি।

মোড়েলগঞ্জে মানব সেবায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন টিএইচও ডা. কামাল
এম.পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে নিজ গৃহে অবস্থানকারি গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানবসেবায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি। রোববার দুপুরে সদর ইউনিয়নের বিশারীঘাটা গ্রামে হোমকোয়ারেন্টে থাকা পরিবারের শারিরীক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন ও পরামর্শ দেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সর্দি কাশি জ্বর ছাড়াও বিভিন্ন রোগের খোঁজ নিয়ে চিকিৎসাপত্র দেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন গাবতলা কমিউনিটি কিনিকের সিএইচসিপি মো. ফারুক হোসেন হাওলাদার, বিশারিঘাটা কমিউনিটি কিনিকের সিএইচসিপি রেবা রানি দাস। পরে তিনি বিশারীঘাটা নবনির্মিত একটি কমিউনিটি কিনিক ভবন পরিদর্শন করেন।

এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, এ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে সংক্রামক প্রতিরোধে সচেতনতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ১৬টি ইউনিয়ন সহ পৌরসভায় ১৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমে একজন মেডিকেল অফিসার মেডিকেল, এ্যাসিসট্যান্ড, নার্স ও সিএইচসিপি সমন্বয়ে এ টিম মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষনিক কাজ করছেন। হোমকোয়ারেন্টে থাকা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আশা লোকজনের তাদের খোজ খবর ও তদারকির জন্য ৩৭জন স্বাস্থ্যকর্মী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোলা হয়েছে আইসোলেশন বিভাগ। রির্জাভ রয়েছে মোবাইল টিম। যেখানেই সংবাদ সেখানেই মোবাইল টিম।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ইতোমধ্যে হোমকোয়ারেন্টে থাকা সন্দেহজনক ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৯ জনের নেগেটিভ রির্পোট এসেছে। বাকিদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। তিনি আরো বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে যেদিন থেকে এ কর্মময় জীবনে পর্দাপন করেছি, আমি মনে করি সেদিন থেকেই মানব সেবাই হচ্ছে আমার ব্রত।

পি-৩/৩
সেই করোনা হাসপাতালের সরঞ্জাম পুলিশকে দিল আকিজ
ঢাকা অফিস
বিনামূল্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় চীনের উহানের স্টাইলে রাতারাতি একটি হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ আকিজ। তবে স্থানীয়দের বাধা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় হাসপাতালটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। সেই হাসপাতালের আইসোলেসন বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছে আকিজ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি পুলিশ হাসপাতালের জন্য শতাধিক আইসোলেসন বেড, আইসিইউ ও কার্ডিয়াক মেশিনসহ বিভিন্ন উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেছে। রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেন আকিজ গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় পাঁচবিঘা জমিতে অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করে সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেখানে করোনা চিকিৎসায় তিনশ শয্যা মেডিকেল তৈরির কাজ প্রায় অর্ধেকে শেষ হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালটি এখানে হলে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে এমন গুজব ছড়িয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয়রা। গত ২৮ মার্চ কয়েকশ স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে হাসপাতালে হামলা চালায়। পিটিয়ে আহত করে হাসপাতালের নির্মাণ শ্রমিক ও নিরাপত্তা রক্ষীদের। এই ঘটনার স্থানীয় কাউন্সিলর শফিউল্লাহ শফি প্রধান উস্কানিদাতা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে, বরাবরই তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কাজ বন্ধের দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আকিজ গ্রুপের কর্তা-ব্যক্তিরা। মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাজ শুরু হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। দীর্ঘদিন মন্ত্রণালয়ের অনুমতির আশায় থাকলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। আকিজ গ্রুপ ৩০০ শয্যার এই হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ, ২৫টি আইসোলেশন বেডসহ চারটি ওয়ার্ডে পুরুষ-মহিলাদের ২৫৯টি বেডের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। দেশব্যাপী করোনা প্রাদুর্ভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ানো হচ্ছে করোনা শনাক্তের ল্যাব। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯১ জনে। এছাড়া নতুন করে আরও ৩১২ জনের শরীরে প্রাণসংহারি ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ায় আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ২৪৫৬ জন।
আকিজের পক্ষ থেকে পুলিশ হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে- ১০০টি আইসোলেসন বেড, আইসিইউ ও কার্ডিয়াক মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ডাক্তারদের জন্য হেলমেট টাইপ পিপি, স্প্রেরুম এবং অনান্য মেডিকেল ইকুইপমেন্ট।
আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দেশের এই কান্তিকালে সামান্য চিকিৎসা উপকরণ পুলিশের হাতে দিয়েছি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এটা করেছি। যাতে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা পেতে পারেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘রবিবার দুপুরে তারা আমার হাতে উন্নত ও দামি সরঞ্জাম হস্তান্তর করেছে। ফলে আমাদের চিকিৎসা দিতে আরও ভালো হবে।’
তারা কি হাসপাতাল করছে না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা জানি না। তবে তাদের অস্থায়ী হাসপাতালের জন্য কেনা সরঞ্জামের কিছু আমাদের কাছে দিয়ে গেছেন।’ এর আগে তেজগাঁওয়ে নিজেদের সবচেয়ে বড় ওয়্যারহাউজটি বন্ধ করে করোনা আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দেয় আকিজ গ্রুপ। সেখানে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মালামাল সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়। প্রস্তুতিও চলছিল চীনের উহান শহরের মতো অস্থায়ী আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের। দেশে একমাত্র করোনা শনাক্তে কিট তৈরির অনুমতি গণস্বাস্থ্যকে দিয়েছে সরকার। তাই গণস্বাস্থ্যের কাছ থেকে কিট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আকিজ। এতে সহজেই সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে এখান থেকে করোনা পরীক্ষা করাতে পারত। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনীহার কারণে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালটি হয়নি বলে জানা গেছে।

রূপসায় র‌্যাবের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ১
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার রূপসা থানার জাবুসা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন রূপসা থানার কাজদিয়া গ্রামের মৃত. ওমর আলী ফকিরের ছেলে মো. রেজাউল ফকির (২৭)।
র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার দিকে রূপসা থানার জাবুসা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় নাজিম উদ্দিন এর চায়ের দোকানের সামনে থেকে ৪বোতল ফেন্সিডিলসহ রেজাউল ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় বিদেশ ফেরত নতুন ৪ জনসহ মোট ৩ হাজার ৫৪১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে, ছাড়পত্র পেল ৩ হাজার ৩৩৭ জন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় বিদেশ ফেরত নতুন ৪ জন মোট ৩ হাজার ৫৪১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ছাড় পত্র দেয়া হয়েছে আরো ৩ হাজার ৩৩৭ জনকে। এছাড়া জেলার বাইরে থেকে আসা সন্দেহজনক এক করোনা রোগীসহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে আসোলেশনে রয়েছে ৪ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে আরো ২১ জন। গায়ে জ্বরসহ অচেতন অবস্থায় ওই সন্দেহভাজন রোগীকে গতকাল সদর উপজেলার আলীপুর এলাকা থেকে আনা হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে আজ আইইডিসিআরের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা থেকে মোট ২১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছেছে। ২৮ টি রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। বাকীদের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।
দুই ইউপি চেয়ারম্যানের নামে ত্রাণ চুরির মিথ্যা পোস্ট: গ্রেফতার যুবক কারাগারে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে ত্রাণ চুরির অপরাধে আটক করা হয়েছে এমন একটি মিথ্যা পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করায় ইকলাস হোসেন সোহান (২০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে তাকে গ্রেফতারের পর রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের আদেশে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার সোহান উপজেলার খোশালপুর গ্রামের মো. আজগর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে উপজেলার ১১নং রাখালগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৪/৫ দিন পূর্বে ইকলাস হোসেন সোহান তার ফেসবুক আইডি ‘আমি তোমার গল্প হবো’ হতে একটি পোস্ট শেয়ার করে। সেখানে লেখা আছে, ‘রাখালগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু এবং বারোবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ত্রাণ চুরির অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে।’ ঘটনাটি মিথ্যা হওয়ায় এতে বাদীর সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, মামলা হওয়ার পর যুবককে আটক করা হয়। রবিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাক জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদি রাখালগাছি ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু জানান, তাকে ও বারোবাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে ত্রাণ চুরির অপরাধে সেনাসদস্যরা আটক করেছে বলে ওই আইডি থেকে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। সেটা ইকলাস হোসেন সোহান শেয়ার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন সেই এটা করেছে। তার একাধিক ফেসবুক আইডি রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলে পুলিশ তাকে আটক করেন।
বাগেরহাটে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার সদস্যরা করোনামুক্ত
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলার একমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের পাঁচ সদস্য করোনার শিকার হননি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই পরিবারের সব সদস্যের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে পাঠানো রিপোর্টে তাদের শরীরে করোনা নেগেটিভ এসেছে। এদিকে, করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাও আগের থেকে ভলো। শনিবার বিকালে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জন বলেন, বাগেরহাট জেলায় প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি চিতলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাটাপাড়া গ্রামে। আক্রান্ত ৩৫ বছরের ওই যুবক ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে গত ৯ এপ্রিল গ্রামের বাড়িতে আসেন। খুসখুসে কাশিসহ করোনা আক্রান্তের উপসর্গ থাকায় তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে নমুনা পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার শরীরে করোনা পজেটিভ আসে। এরপর ১৫ এপ্রিল বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটাপাড়া গ্রামে আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের ১৬ বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আক্রান্তের স্ত্রী, মা, দুই ভাই ও এক ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রিপোর্টে তাদের শরীরে করোনা নেগেটিভ এসেছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা দিন দিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওই রোগীর দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে ওই ব্যক্তি করোনামুক্ত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা ফু কর্নারে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও একজন মারা গেছেন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) খুমেক হাসপাতালের ফু কর্নারের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মৃত মাসুমা বেগমের (৪৫) বাড়ি পিরোজপুরের জিয়া নগরে। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে এখানে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বেলা ১২টায় মারা যান। পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হবে।

জ্বর-সর্দিতে মৃত্যু, গোপনে দাফন
বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোলে জ্বর-সর্দিতে এক শিশুর (১১) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। তার মৃত্যুর পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাড়িটি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন। শিশুটি করোনা আক্রান্ত ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলি জানান, রবিবার (১৯ এপ্রিল) শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি বলেন, তিন দিন আগে দুই মেয়ের জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও ভয়ে তাদের বাবা বিষয়টি কাউকে জানাননি। স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বড় মেয়েটি বারবার বমি ও পাতলা পায়খানা করছিল। অবস্থার অবনতি হলে যশোরে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে মনিরামপুর উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে গোপনে দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি শুনেই বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।