Home জাতীয় নাহিদকে রড দিয়ে পিটিয়েছে সিয়াম আর কুপিয়েছে ইমন

নাহিদকে রড দিয়ে পিটিয়েছে সিয়াম আর কুপিয়েছে ইমন

35

ঢাকা অফিস।।

রাজধানীর নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ছাত্র-ব্যবসায়ী সংঘর্ষে নিহত নাহিদের হত্যাকারী সন্দেহে মাহমুদুল হাসান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

তাদের দাবি, সিয়াম নাহিদকে রড দিয়ে পিটিয়ে প্রায় মেরে ফেলার পর, ইমন নামের একজন রামদা দিয়ে কোপায়। ইমনকে এখনো ধরা যায়নি।

এদিকে, যে ফাস্টফুড দোকান থেকে সংঘর্ষের ঘটনা শুরু, সেই দোকানের কর্মচারী সজিব ও বাপ্পিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাহিদকে কোপানোর যে দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সেই দৃশ্যেই ধরা পরেছে হেলমেটবিহীন একটি ছেলেকে। র‌্যাবের দাবি, এই ছেলেই নাহিদকে রড দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার পর ফুটপাতেই ফেলে রেখে চলে আসে।

এরপরই ইমন নামের আরেকজন গিয়ে তাকে কোপাতে শুরু করে। তখন আবার তাদের সহযোগী এক দুইজন গিয়ে ইমনকে সরিয়ে আনে। রড দিয়ে যিনি পিটিয়েছেন তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র; নাম মাহমুদুল হাসান সিয়াম। তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সিয়ামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার এই বিবরণ তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ভিডিওতে দেখা গেছে, সিয়াম রড দিয়ে নাহিদকে পেটাচ্ছিলেন। পরে ইমন এসে কোপায়। বুধবার রাতে শরীয়তপুর থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে গোয়েন্দা শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিট ইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, সিয়াম এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপনে ছিলো। সে তাদের কাছে বলেছে, আবেগের বশে সে ওই কাজ করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন জনের ইন্ধন ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার-গুজবের ভিত্তিতে সিয়াম জড়িয়ে পড়ে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে।

মঈনের দাবি, সিয়াম কলেজের আবাসিক ছাত্র ছিলেন না এবং তার ‘রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই’। ২১ বছর বয়সী সিয়াম ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

এদিকে, যাদের কারণে এতো বড় লংকা কাণ্ড। ওয়েলকাম ফাস্ট ফুডে সেই দুই কর্মকচারী মোয়েজ্জেম হোসেন সজীব ও মেহেদী হাসান বাপ্পিকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উসকানির অভিযোগে তাদেরকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব মুখপাত্র জানান, সজীব ও বাপ্পি বেশভূষা পরিবর্তন করে কক্সবাজারে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখানে তারা বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চাকরির চেষ্টা করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, নিউমার্কেটে পাশাপাশি দুটি ফাস্ট ফুডের দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে ইফতারি বিক্রয়ের টেবিল বসানো নিয়ে বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি হয়। প্রতিশোধ নিতে দুই দোকানকর্মী মোয়াজ্জেম ও মেহেদী ফোন করে তাঁদের পরিচিত দুষ্কৃতকারীদের আসতে বলেন। পরে দুই দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে ছাত্র ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা সংঘর্ষে রূপে নেয়।

সংঘর্ষকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় হামলাকারীদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে।

যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দোকানকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে র‌্যাব।

গত ১৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরদিন ১৯ এপ্রিল দিনভর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন বিপণি-বিতানের দোকান মালিক-কর্মচারী ও হকারদের সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন: লিটারে ৩৮ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

সংঘর্ষে দুজন মারা যান। তাদের একজন কুরিয়ার সার্ভিসকর্মী নাহিদ হোসেন। অপরজন নিউ সুপারমার্কেটের দোকানকর্মী মোহাম্মদ মোরসালিন। সংঘর্ষে আহত হন অর্ধশত ব্যক্তি। সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। মোট আসামির সংখ্যা ১,৭২৪। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি, যেগুলোর তদন্ত করছে ডিবি। অন্য তিনটি মামলা তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।

নাহিদকে হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। তারা হলেন আবদুল কাইয়ুম, পলাশ মিয়া, মাহমুদ ইরফান, ফয়সাল ইসলাম ও জুনাইদ বোগদাদী। ডিবি জানায়, পাঁচজনই ঢাকা কলেজের ছাত্র। সংঘর্ষের সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামনের সারিতে ছিলেন।