যশোর অফিস।।
ইতিহাস ঐতিহ্যের অনেক স্মারক নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা। তাদের সামনে সেসব দুর্লভ সংগৃহীত বস্তু উপস্থাপন করেছে যশোরে কালেক্টরেট সোসাইটি।
সংগঠনটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জিলা স্কুল মাঠে দুদিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
শনিবার এ প্রদর্শনী শেষ হয়েছে। শুক্রবার প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এতে অংশ নেয় আটজন এন্টিক সংগ্রাহক।
প্রদর্শনীতে এন্টিক সংগ্রাহকদের স্টলগুলোর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ বঙ্গবন্ধু প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনীর সংগ্রাহক লুতফর রহমান লাল্টু। তার প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বঙ্গবন্ধু যে ধরনের মাইকে কথা বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সে ধরনের মাইক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা, প্রাচীনকালে কৃষকদের ব্যবহৃত হুক্কা পাইপ, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত রেডিও ও ক্যাসেট, বঙ্গবন্ধু ডাকে বাঙালি জাতি যে সব জিনিসপত্র নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই তরবারি, ঢাল, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং পাক হানাদাররা যে বেয়োনেট ব্যবহার করে বাঙালিদের হত্যা করেছিল সেই বেয়োনেট এবং স্বাধীন বাংলাদেশের খোদাই করা মানচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের বিলুপ্ত হওয়া মুদ্রা, আগের যুগে ব্যবহৃত কয়লার কাপড় ঘষা যন্ত্র, কলের গান, আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত বস্তু, আগের যুগে ব্যবহৃত টেলিফোন এবং যুদ্ধের সময় ববহৃত নানা মডেলের ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্ত হওয়া লটারি ও ডাকটিকিটসহ আরও অনেক কিছু।
লুতফর রহমান লাল্টু বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে আমার নজরে পড়া প্রাচীনকালে ব্যবহৃত দুর্লভ এসব বস্তু একটি একটি করে সংগ্রহ করেছি। এগুলো বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের যুদ্ধকালীন পরিচিতি ও ইতিহাস তুলে ধরে। এসব বস্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও দৃঢ় করবে। খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে আমি মোট ১২টি প্রদর্শনীতে আমার এই সংগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি।
ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসা শহরের বেজপাড়া এলাকার তপু বিশ্বাস বলেন, প্রদর্শনী দেখে খুব ভালো লাগছে। এগুলো এখনকার প্রজন্মের কাছে তৎকালীন সময় সম্পর্কে শিক্ষনীয় ভূমিকা রাখবে।
তপু বিশ্বাসের ছেলে যশোর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র তীর্থ বলে, আমার এ প্রদর্শনী দেখে অনেক আনন্দ লাগছে। আমি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র, সেখানে এ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা হয়ে ওঠে না আমাদের। এজন্য এখানে এসে অনেক আগের বস্তুর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি এবং জানছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম গোলাম আযম বলেন, প্রাচীনকালের ঐতিহ্য সংগ্রহ করে রেখেছে এ সংগঠনের সদস্যরা। প্রদর্শনী দেখে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রাচীনকাল এবং যুদ্ধকালীন অনেক ধারণা পাবে।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হয়। যশোর কালেক্টরেট সোসাইটি সংগঠনের সদস্যরা ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এখানে প্রদর্শনী পরিদর্শনে এসে জাতির পিতার অনেক সংগ্রহ দেখলাম, কলের গান শুনেছি ও দেখেছি, কৃষকেরা আগের যুগে যে হুক্কা ব্যবহার করতো সেগুলো দেখলাম। এছাড়া আগের যুগে মানুষ যে সব জিনিসপত্র ব্যবহার করতো কিন্তু এখন কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে, সেগুলো এখানে দেখলাম। এসব সংগ্রহ যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোথাও রাখতে হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারি।










































