ঢাকা অফিস।।
প্রিয় পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধ কবি ও সাবেক সাংসদ কাজী রোজী। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। রেখে গেছেন মেয়ে সুমী সিকানদারসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষী। রবিবার বেলা দেড়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় কবি কাজী রোজীকে। এখানেই তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শবদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কবির ধানম-ির বাসভবনে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক হিসেবে এই কবিকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। মিরপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে এখানে কবির প্রতি দ্বিতীয় দফা নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা জানানোর পর সমাহিত করা হয় তাকে। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়া এই কবি। কোভিড পজিটিভ হওয়ায় তাকে আইসোলেশন ইউনিটের আইসিউতে রাখা হয়েছিল। ৩১ জানুয়ারি থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি ঘটেনি। কিডনিসহ মাল্টি অর্গান সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। স্ট্রোক করার কারণে তার মস্তিষ্কও কাজ করছিল না। একুশে পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারজয়ী কবি কাজী রোজীর মৃত্যুর সংবাদে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, কাজী রাজী তার লেখনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে কাজ করে গেছেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কবিতা রচনা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকার জন্য কাজী রোজী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
কবি কাজী রোজী ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ২০০৭ সালে তথ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে আসেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন জাতীয় সংসদের গ্রন্থাগারসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য। স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধ এই কবি স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
গত শতকের ষাটের দশকে কবিতা লেখা শুরু করেন কাজী রোজী। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো ‘পথঘাট মানুষের নাম’, ‘নষ্ট জোয়ার’, ‘আমার পিরানের কোন মাপ নেই’ ও ‘লড়াই’। এছাড়াও লিখেছেন জীবনীগ্রন্থ ‘কবি মেহেরুন নেসা’ ও গবেষণাগ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথ : রসিকতার কবিতা’। সাহিত্যের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০২১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।









































