খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।
ইয়েমেনে ২০২০ সালের লড়াইয়ে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা প্রায় ১,৫০০ শিশু নিহত হয়েছে এবং এর পরের বছর নিহত হয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক শিশু। জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের ৩০০ পাতার এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানায়, ২০২০ সালে হুথিদের নিয়োগ করা এক হাজার ৪০৬ জন শিশুযোদ্ধা নিহত হয়। তাছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫৬২ জন শিশু মৃত্যুর তালিকা পাওয়া গেছে।
চার সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি বার্তা সংস্থা জানায়, এই শিশুদেরকে হুতি স্লোগান ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘ইহুদিদের অভিসম্পাত’ এবং ‘ইসলামের জয়’ বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। একটি শিবিরে ৭ বছরের ছোট বাচ্চাকেও অস্ত্র পরিস্কার করা এবং রকেট এড়িয়ে চলা শেখানো হতো। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানান, নিহত শিশুযোদ্ধাদের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছর। আমরান, ধামার, হাজ্জাহ, হোদেইদাহ, ইব্বি, সাদা ও সানায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুযোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হুথি বিদ্রোহীরা তাদের মতাদর্শ প্রচার করতে বিভিন্ন ক্যাম্প ও মসজিদ ব্যবহার করছেন। তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শিশুদের নিয়োগ করছেন। তবে এ স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে সৌদি জোট।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেনি সরকারকে সহযোগিতা এবং বিদ্রোহীদের দমনের লক্ষ্যে ইয়েমেন যুদ্ধে যোগ দেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে তাদের এই অভিযানে ইয়েমেনের হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়ি হারিয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
বিবিসি জানায়, ২০১৫ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু। লড়াইয়ের ফলে লাখো প্রাপ্তবয়স্কেরও মৃত্যু হয়েছে। আরও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের মতে, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে ইয়েমেনে। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষেরই জরুরি ত্রাণসহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা।
সৌদি জোটের বিরুদ্ধে লড়তে হুথি বিদ্রোহীদের ইরান অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে রিয়াদ। ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর পর গত কয়েক বছরে তারাও বেশ কয়েকবার সীমান্ত এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।











































