Home আঞ্চলিক মুসলিমা হত্যাকান্ডে দু’আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি : গ্রেপ্তার আরও ২

মুসলিমা হত্যাকান্ডে দু’আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি : গ্রেপ্তার আরও ২

11

ফুলতলা প্রতিনিধি ।।

খুলনা জেলার ফুলতলা থানাধীন উত্তরডিহি এলাকায় গণধর্ষনের পর মুসলিমা (২১) কে গলা কেটে হত্যা মামলার দু’আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। নিহত মুসলিমা সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার পাইস্যাখালী গ্রামের মো. এমদাদুল ইসলামের মেয়ে। সে দামোদর গ্রামের মো. শহিদুল হকের ভাড়া বাড়িতে থেকে  ফুলতলার আয়ান জুট মিলের শ্রমিকের কাজ করতেন।  

রবিবার (৩০ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ আসামিদের আদালতে হাজির করেন। এসময় তাদের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নয়ন বিশ্বাস রেকর্ড করেছেন। আসামিরা হলেন ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা পুর্বপাড়ার মোশারফ খন্দকারের ছেলে রিয়াজ খন্দকার (৩২) একই এলাকার শিলন সরদারের ছেলে সোহেল (২৫)। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ জানান, ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে মুনসুর খাঁ (৮০) এবং ইউসুফ আলী (৬৩) কে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম মুসলিমার মাথার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে দাফন করা হয়। রিয়াজের বাড়ির পুকুর থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন এবং সোহেল সরদারের বাড়ির কবুতরের ঘর থেকে কাঁনের দুল চেইন উদ্ধার হয়। এছাড়া মুসলিমাকে তার বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার জন্য রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয় রিয়াজ সোহেল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, ২৫ জানুয়ারি রাতে রিয়াজের ফোন থেকে সোহেল মুসলিমাকে ফোন দেয়। ঘর থেকে বাইরে আসলে তাকে নিয়ে প্রথমে বেজেরডাঙ্গা বাজারে নেয়া হয় তাকে। সেখানে রিয়াজুল তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। তারা তিনজন মিলে বাজারের বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। এরমধ্যে রিয়াজ তার দু:সম্পর্কের দুলাভাই ইউসুফকে ফোন দিয়ে একটি ঘর প্রস্তুত করতে বলে। ইউসুফ আবার ফোন করে যুগ্নিপাশা গ্রামের মুনসুরকে ঘরের জন্য জানায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা তিনজন মিলে মুনসুরের একটি কক্ষে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরে সোহেলকে ঘর থেকে বের হতে বলে রিয়াজ। প্রথমে মুসলিমাকে ধর্ষণ করে রিয়াজ। আধাঘন্টা পরে সোহেল ওই ঘরে ধর্ষণের জন্য গেলে চিৎকার করে সে। পরে ঘর থেকে বের হয়ে আসে সোহেল। ধর্ষণ শেষে রিয়াজকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে মুসলিমা। বাইরে এসে তারা দু’জন আলোচনা করে ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস হলে তাদের সামনে বিপদ আছে। তারা দু’জনে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রাত দেড়টার দিকে মুনসুরের বাড়ি থেকে বের হয় ওই তিনজন। নির্জন রাস্তায় এসে মুসলিমার মুখ চেপে ধরে সোহেল। গায়ের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় রিয়াজ। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দু’পাশ থেকে ওড়না টেনে রাখে দু’জন। মৃত্যুর পরও দু’জনে তাকে ধর্ষণ করে। গায়ের ওড়না দিয়ে একটি গাছে লাশটি ১০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখে। লাশটি নামানো হয়। যেন তাকে কেউ শনাক্ত না করতে পারে সেজন্য রিয়াজ বাড়ি থেকে ধারালো বটি এনে দেহ থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। দেহের অংশটি উত্তরডিহির রেজাউল মোল্লার ধান ক্ষেতে আর মাথাটি নিহতের পরিধেয় কাপড় দিয়ে আবৃত করে ওই এলাকার নজরুলের নির্মাণাধীন বাড়ির টয়লেটের বালুর নিচে পুতে রাখে তারা।

মামলার বিবরণে জানা যায়,  গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ফুলতলার উত্তরডিহি এলাকার ধান খেত থেকে মুসলিমার মস্তকবিহীন বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়না তদন্ত শেষে ২৭ জানুয়ারি মস্তকবিহীন দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনায় নিহতের বোন আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন যার নং-১৩। ওই এজাহারে আরো বলা হয়, ২৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোবাইলে কল পেয়ে মুসলিমা বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরদিন সকালে মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার হয়।