Home সম্পাদকীয় তুর্কি নাগরিক গ্রেফতার

তুর্কি নাগরিক গ্রেফতার

7

এটিএম কার্ডের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে এবার ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে তুরস্কের নাগরিক হাকান জানবারকানকে। ১৮ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে বাংলাদেশী সহযোগী মফিউল ইসলামসহ। এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে হাকান জানবারকান ২-জানুয়ারি ৯৯ বার টাকা তুলে নেয়ার চেষ্টা চালায় ঢাকার ৪টি ব্যাংক থেকে। ব্যাংকের এ্যান্টি স্ক্যানিং প্রযুক্তির এ্যালার্ম সিস্টেমে ধরা পড়ে ঘটনাটি। এর পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে বিষয়টি। পরে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ৫৫ বছরের হাকান জানবারকান এটিএম কার্ড জালিয়াতির অন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। তার কাছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মানি, তুরস্ক, সৌদি আরব, স্পেন, নরওয়েসহ অন্তত ৯৯ দেশের নাগরিকদের ক্লোন করা এটিএম কার্ড পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৭ ক্লোন করা কার্ড, দুটি পাসপোর্ট, একটি ল্যাপটপ বিভিন্ন মডেলের ৫টি মোবাইল ফোন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসার আগে ভারতের অসমে এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ লাখ রুপি তোলার পর ধরা পড়ে সে দেশের পুলিশের হাতে। প্রায় ২০ মাস কারাভোগের একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে সিকিম-নেপাল হয়ে ফিরে যায় তুরস্কে। পরে সে দেশ থেকে নতুন পাসপোর্ট বাগিয়ে বাংলাদেশে আসে প্রতারণার উদ্দেশ্যে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।

ইতোপূর্বে নাইজিরিয়া, লাইবেরিয়াসহ বেশ কয়েক বিদেশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে জাল ডলার বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে। অভিনব উপায়ে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিকবার টাকা উত্তোলনের কারণে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত জন ইউক্রেনের নাগরিককে। এর বাইরেও একাধিক প্রতারকের আত্মগোপনে থাকা বিচিত্র নয়। এই জালিয়াত চক্রটি ‘টপকিন’ নামের একটি ম্যালওয়ার ব্যবহার করে এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ফলে ব্যাংকের সার্ভার থেকে বুথ মেশিনের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এতে বুথ থেকে নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয় চক্রটি। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে যে নির্দেশনা আসার কথা তা দিয়ে থাকে জালিয়াত চক্রের সদস্যরাই। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে যে, ইউক্রেনের জালিয়াত চক্রের সদস্যরা আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত ‘কোবরা’ চক্রের সদস্য। অবাক করার বিষয় হলো, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের ঘটনায় ‘লেজারাস’ নামের যে চক্রটি জড়িত ছিল, সেই অপরাধী চক্রের সঙ্গেও এদের যোগাযোগ রয়েছে। হাতিয়ে নেয়া অর্থ উদ্ধারে ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রান্ত অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ করেছে সরকার। গঠন করা হয়েছে ‘সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’এখন সময় এসেছে আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগের। এর পাশাপাশি ব্যাংক-বীমাসহ সর্বত্র সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে দক্ষ যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলাও বাঞ্ছনীয়।