স্টাফ রিপোর্টার।।
একঝাঁক তরুণ–তরুণীর গায়ে কয়েদির পেশাক। মাথায় কয়েদি টুপি। তবে সবার চোখেমুখে মুক্তির আনন্দের ঝিলিক। ‘কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট’ গানের তালে তালে উল্লাসধ্বনি আর নাচে মাতোয়ারা তাঁরা।
এই ‘কয়েদিরা’ কোনো কারাগারের নয়; তাঁরা আসলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জীবনের শেষ ক্লাসের ‘সেলিব্রেশন ডে’ উদ্যাপনের জন্য এমন ব্যতিক্রমী সাজে সেজেছিলেন তাঁরা। তাঁদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা রকমের আলোচনাও চলছে।
কুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৬ ব্যাচের শেষ ক্লাস হওয়ার কথা ছিল রোববার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্লাস আর হয়নি। তবে তাঁদের উদ্যাপন থেমে থাকেনি। মজায় মজায় নানা আয়োজনে দিনটি কাটিয়েছেন তাঁরা।

আয়োজক সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলায় জড়ো হয়ে ‘গঊ-১৬’ (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-১৬) লিখে ছবি তোলেন তাঁরা। এরপর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গিয়ে আবারও নানান ঢঙের ছবি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোভাযাত্রা শুরু করে মুক্তমঞ্চের সামনে কিছু সময় উদ্যাপন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর একজন শিক্ষার্থী জেলার সেজে ঘণ্টা বাজিয়ে কারাগারের আবহ তৈরি করেন। কয়েদিদের মতো বাকিরা থালা নিয়ে একে একে লাইনে দাঁড়িয়ে ছাত্রকল্যাণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে খেতে বসে যান। সবাই মিলে খেয়ে কয়েদিরা অ্যাপ্লায়েড থার্মোডাইনামিকস ল্যাব কুইজ মোকাবিলা করেন। এরপর মোরগ লড়াই, হা-ডু-ডু আর কারামুক্তি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তারপর কারামুক্তির উল্লাসে কেক কাটা এবং ‘না বুঝি দুনিয়া না বুঝি তোমায়’ গানে নাচ হয়।
কয়েদিরা জেলের মধ্যে আটকে থাকে, আমরাও করোনার জন্য আটকে ছিলাম। আটকে থাকার বিষয়টিকে আমরা কয়েদি পোশাক দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমরা মজা করার জন্য এসব করেছি।
যন্ত্রকৌশল ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আয়োজকদের একজন ফরিদ-উজ-জামান বলেন, এটার আয়োজক ছিল কুয়েটের মেকানিক্যাল ১৬ ব্যাচ। তাঁরা শেষ ক্লাস উদ্যাপনে ‘ইউনিক’ কিছু করার চেষ্টা করেন। করোনার কারণে গ্র্যাজুয়েশন সময়মতো শেষ করতে পারেননি তাঁরা। এখনো একটা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বাদ রয়েছে, থিসিস বাদ রয়েছে। তাঁদের যেসব বন্ধু বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, তাঁরা তাঁদের স্নাতক শেষ করে ফেলেছেন। ফরিদ-উজ-জামান বলেন, ‘করোনা আমাদের সময়টাকে নিয়ে গেছে। আমাদের হতাশা থেকেই এই থিম বেছে নেওয়া। কয়েদিরা জেলের মধ্যে আটকে থাকে, আমরাও করোনার জন্য আটকে ছিলাম। আটকে থাকার বিষয়টিকে আমরা কয়েদি পোশাক দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমরা মজা করার জন্য এসব করেছি। এর বাইরে কিছু না।’ আয়োজকদের আরেকজন ইশতিয়াক অয়ন বলেন, ‘করোনা আমাদের শেষ ক্লাসটাও সশরীর হতে দিল না। তারপরও আমরা আয়োজন করেছি। এই দিন তো আর ফিরে আসবে না। তিন বছর ধরে আত্মীয়স্বজন সবাই শুধু বলেÍআর তো মাত্র কয়েকটা দিন, মাত্র কয়েকটা দিন। সেটাই লম্বা হতে হতে অবশেষে শেষ হচ্ছে। আমাদের জীবনটা একটা জেল হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হতে পারছিলাম না। অবশেষে এ রকম থিমে মুক্তির আনন্দ।’









































