ঢাকা অফিস ।।
‘পাগল’ স্ট্যাটাস থাকা ভোটারদের একের পর এক আবেদন আসতে থাকায় খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারাও অবাক! কারণ ‘পাগল’ স্ট্যাটাস থাকা নাগরিকরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা না। এরা শুধু নাগরিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাবেন। সম্প্রতি দেখা দেওয়া এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রিন্টেড ভোটার নিবন্ধন জন্য তৈরি ২ নম্বর ফরমে ‘অপ্রকৃতিস্থতা’ বিষয়টি না থাকলেও অনলাইনের আবেদন ফরমে রয়েছে। যার জন্য এই সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চার হাজারের উপরে নাগরিকদের এই সমস্যা রয়েছে। দ্রুত কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিশন কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, বিষয়টি কমিশন গুরুত্বসহকারে দেখছে। ‘ম্যাডনেস’ সমস্যা সমাধানের জন্য দুইটি দিক বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে। একটি হলো- কমিশনের নিজস্ব উদ্যোগে ‘পাগল’ স্ট্যাটাসে থাকা সবাইকে এখান থেকে মুক্ত করে দেওয়া। আরেকটি হলো- সংশ্লিষ্ট ভোটার পাগল না-এই বিষয়ে সনদ নিয়ে আসা। তবে বেশিরভাগের মত কমিশন নিজ উদ্যোগে এই সমস্যা সমাধানের পক্ষে।
সূত্র আরও জানায়, বিষয়টি আগামী বুধবার (১০ নভেম্বর) সভার এজেন্ডার মধ্যেও রাখা হয়েছে। কমিশন সভায় আলোচনা করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা যায়, ভোটার হওয়ার সময় অনেক নাগরিক ভুলবশতঃ বা অজ্ঞতাবশতঃ নিবন্ধন ফরম পূরণ করার সময় ‘অপ্রকৃতিস্থতা’ অংশে টিক দিয়ে দিয়েছেন। ফলে তারা নানান ধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ‘অপ্রকৃতিস্থতা’ বা পাগল থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসার জন্য অনেকেই আবেদন করলে বিষয়টি ইসি’র নজরে আসে।
এই বিষয়ে এর আগে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে গিয়ে নাগরিকরা এই ভুলটি করছেন। তারা ফরম পূরণ করার সময় সেটি ভালোভাবে দেখছেন না।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি সেবার সার্ভিস নেয় তারা এনআইডি’র সব তথ্য দেখতে পারে না। তাদেরকে যতোটুকু না হলেই নয় ততোটুকু এক্সেস দেওয়া হয়। কোনো নাগরিক যাতে এই সমস্যার কারণে ভ্যাকসিন বঞ্চিত না হন, সেজন্য ইসি এই অপশন ওপেন করে দেওয়ার কথা চিন্তা করছে। এছাড়া ‘অপ্রকৃতিস্থতা’ অংশটিও ভোটার নিবন্ধন ফরম থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য ভোটার হওয়ার সময় সাবধানতার সংগে নাগরিকদের নিজে ফরম পূরণ করার অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ‘ম্যাডনেস’ সমস্যার সমাধান চেয়ে মাঠপর্যায় থেকে কয়েক হাজার আবেদন ইসিতে এসেছে। এই পর্যন্ত কমবেশি পাঁচশ ম্যাডনেস সমস্যার সমাধানও করে দিয়েছে কমিশন।










































