Home আঞ্চলিক বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের শাহাদৎ বার্ষিকীতে কোন কর্মসূচী না থাকায় পরিবারের ক্ষোভ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের শাহাদৎ বার্ষিকীতে কোন কর্মসূচী না থাকায় পরিবারের ক্ষোভ

6

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি।।

গতকাল ২৮ শে অক্টোবর ছিলো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫০তম শাহাদৎ বার্ষিকী।

সারাবছর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী থাকলেও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে নিয়ে কোন কর্মসূচী না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেজ ভাই হামজুর রহমানের ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান মিলন জানান, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এছাড়া কলেজের পক্ষ থেকে আলোচনা ও দোয়া অনষ্ঠানের আয়োজন করে। সে অনষ্ঠানে দাওয়াতি মেহমান হিসাবে স্থানীয় সাংসদ, নির্বাহী অফিসার ও রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা এসেছিল। তবে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মি. মিলন।

এব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী পালন করেছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মুজিবর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সরকারীভাবে কোন নির্দেশনা নেই। তবে, ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো বলে জানান এই জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৯ মার্চ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম (অবঃ) মেজর জেনারেল সি আর দত্ত। জাদুঘর উদ্বেধনকালে তত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল গ্রামের নাম হামিদনগর ঘোষনা দেন। গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জাদুঘরের সামনেই স্থাপন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের জীবনী সম্বলিত একটি বিশাল আকৃতির ফলক। ফলকে মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনিতে উল্লেখ করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগোনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৪৭-এর ভারত বিভাগের পর তার দাদা-বাবা-চাচারা চলে আসেন ঝিনাইদহ জেলার সীমন্তবর্তী উপজেলার খরদো খালিশপুর গ্রামে। ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারী তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। পরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ পূর্বে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই নামক স্থানে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেন। ২৮ অক্টোবর রাতে ধলইয়ের যুদ্ধে শহীদ হন। মৃত্যুর পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত আমবাসা নামক স্থানে একটি মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর হামিদুরের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে এসে ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করে বাংলাদেশ সরকার।