স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় কোভিড টেস্টের ফির ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। খুলনার সদর হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাশ এ মামলার আসামি হচ্ছেন। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে মঙ্গলবার প্রকাশের পরিবারকে আরও একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে না আসার কারণ ব্যাখ্যাসহ অফিসে যোগদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে প্রকাশ তার কর্মস্থল থেকে চলে যান। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান সিভিল সার্জন অফিস। ২০২০ সালের ২ জুলাইয়ের পর থেকে সদর হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য সাধারণ মানুষ ও বিদেশগামীদের কাছ থেকে যে ফি আদায় করা হয়েছে, এর বড় একটি অঙ্ক প্রকাশ রাজস্ব খাতে জমা দেননি। যার পরিমাণ ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন মঙ্গলবার বলেন, সিভিল সার্জন অফিসের পাঁচ সদস্যের একটি টিম যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি রাজস্ব খাতে টাকা জমা না দেওয়ার প্রমাণ পায়। এ বিষয়ে সোমবার রাত ১১টার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি দুদককে অবহিত করা হয়। দুদকের সূত্র জানায়, থানা থেকে কাগজপত্র পেয়েছি। পাশাপাশি যুগান্তরের প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি। প্রকাশের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ঢাকায় অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললেই মামলা করা হবে।
সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, প্রকাশের পরিবারকে আজও একটি নোটিশ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক মামলা করবে। এছাড়া পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে যেন প্রকাশ দেশত্যাগ করতে না পারে।
সদর হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য সাধারণ মানুষদের তিনশ ও পাঁচশ টাকা এবং বিদেশগামীদের সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করোনা টেস্টের জন্য নেওয়া হতো। এসব টেস্টের টাকা সংগ্রহ করে চালানের মাধ্যমে সিভিল সার্জন অফিসে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সদর হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমারের। সেই মোতাবেক প্রকাশ প্রতিদিনই চালানের মাধ্যমে কোভিড টেস্টের টাকা জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার সঙ্গে টেস্টের সামঞ্জস্য না হওয়ায় সন্দেহ সৃষ্টি হয় সিভিল সার্জন অফিসের। এর আগের সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ লিখিতভাবে প্রকাশের কাছে কোভিড টেস্টের টাকার হিসাব চাইলে প্রকাশ সেটা দেননি। এরপর বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ গত বছর খুলনায় যোগদানের পর থেকে প্রকাশের কাছে হিসাব চেয়ে কয়েক দফা লিখিত আকারে চাইলেও গুরুত্ব দেননি প্রকাশ। পাঁচ-ছয়টি চিঠি প্রকাশকে দেওয়ার পর ২৬ জুলাই তিনি হিসাব দেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়ে উত্তর দেন। কিন্তু এতে রাজি না হয়ে সিভিল সার্জন তাকে ১৫ দিনের মধ্যেই হিসাব দিতে বলেন। কিন্তু তাতে গড়িমসি শুরু করেন প্রকাশ। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সিভিল সার্জন নিজেকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন। কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে কোভিড টেস্টের ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার গরমিল মেলে। এরপর প্রকাশকে এ টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য বলা হলে তিনি টাকা দিতেও স্বীকার হন। তবে টাকা পরিশোধের জন্য সময় দাবি করেন।
সিভিল সার্জন প্রকাশকে কোনো সময় না দিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরে প্রকাশ ২৩ সেপ্টেম্বর তার অফিসের কর্মচারীদের নিয়ে পুনরায় হিসাব যাচাই করা শুরু করে। দুপুরের দিকে প্রকাশ তার সহকর্মীদের জানান, তার আত্মীয় মারা গেছেন। এ বলে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। এখনো তার সন্ধান মেলেনি। প্রকাশ যশোরের বাঘারপাড়া এলাকার সুরেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে। তিনি নগরীর মুজগুন্নি এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্ত্রী মাধবী শেখ আবু নাসের হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট হিসাবে কর্মরত আছেন।











































