জাহিদুর রহমান সোহাগ দাকোপ ।।
খুলনার দাকোপে চড়া নদী, পূর্ব বাজুয়া, কচাসহ বিভিন্ন এলাকার খাল ও জলাশয় আড়াআড়ি টোনাজাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে চলছে মাছ শিকার। এতে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া দিন দিন খালগুলোর নাব্যতা কমে আসছে। আবার অসংখ্য মানুষের আমিষের চাহিদা পূরনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া কৃষি কাজও মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। ফলে এলাকার হাজারো কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন উপকূল ঘেঁষা এই উপজেলায় বিভিন্ন নামে ২২৮টি বেশি খাল ও জলাশয় রয়েছে। এসব অধিকাংশ সরকারী খাস খালগুলো নাম মাত্র ইজারা নিয়ে ইজারাদার অথবা গায়ের জোরে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় দখলে রেখেছেন। তাঁরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আড়াআড়ি অবৈধ ভাবে বাঁধ, খন্ড খন্ড টোনাজাল, নেটজাল, পাটাজাল, চাকজাল, কারেন্ট জাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন। তাছাড়া খালের উপর গড়ে উঠেছে বসত ঘরসহ নানা স্থাপনা এমনকি পাকা প্রচীরও। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দূর্বলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ কৃষকের বীজতলা ও রোপা আমনের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে চলেছে। আর শুকনো মৌসুমে খালে পানি ধারন ক্ষমতা না থাকায় সেচ সংকটের কারনে রবি শস্য ও বোরো চাষ চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। এসব কারনে এক সময়েকার জলাশয়ে ভরা এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি কৃষিকাজেও দেখা দিচ্ছে চরম বিপর্যয়। অন্যদিকে পলি মিশ্রিত পানি ঐ সব জালে বাধাগ্রস্থ হয়ে খালের নাব্যতা দিন দিন কমে আসছে। এতে অসংখ্য দেশী প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। ফলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০৬টি গ্রামের প্রায় দুই লক্ষ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরনে নেতিবাচক প্রভাবের আশংঙ্কা করছেন তাঁরা।

চুনকুড়ি এলাকার কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য জীবনান্দ মন্ডল, সুদিপ্ত সরদার, দুলাল মোড়লসহ একাধিক কৃষকরা আলাপকালে জানান, খাল ইজারা নিয়ে ইজারাদাররা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খালে আড়াআড়ি নেটপাটা এবং টোনাজাল দিয়ে মাছ শিকারের ফলে পানি সরবরাহের ব্যাপক প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে এবং পলি পড়ে খালের নাব্যতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে খালের পানি সেচে ফেলে দিয়ে মাছ ধরে নেওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে রবি শস্যসহ বোরো চাষ করতে পারে না। এমনকি রবি শস্য ক্ষেতেও সেচ দিতে পারে না।
কৈলাশগঞ্জ এলাকার ইউপি সদস্য সিন্ধু রায় বলেন, খালে বিভিন্ন জাল পেতে রাখার কারনে কৃষি কাজ ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া অসংখ্য দেশী প্রজাতী মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। ফলে উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠির আমিষের চাহিদা পুরনে নেতিবাচক প্রভাবের আশংঙ্কা করছেন তিনি। অবিলম্বে বিভিন্ন খালের সকল জাল অপসারন এবং কৃষকের কথা বিবেচনা করে খালগুলো ইজারা বন্দের দাবী জানান তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানান, খালগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে এবছর চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের ৯৬.৫ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮৭০ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব অবৈধ জাল উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।









































