Home আঞ্চলিক বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ি ফিরবে পুরনো আদলে

বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ি ফিরবে পুরনো আদলে

12

স্টাফ রিপোর্টার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার পৈতৃক বাড়িটি পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। গত নভেম্বর থেকে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়ির দেয়াল থেকে পলেস্তারা সরিয়ে পুরনো আদলে পলেস্তারা করা হচ্ছে। বাড়িটি দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। ৩৬০ বছর আগে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের (বর্তমানে জেলা) অজপাড়া গাঁয়ের টুঙ্গিপাড়ায় বসতি স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধুর পূর্ব পুরুষেরা। পরে বাড়িটি নির্মাণ করেন বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ জমিদার শেখ কুদরতউল্লা। বাড়িতে সেগুন কাঠের তৈরি নিপুণ কারুকাজের ১২টি পিলার রয়েছে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ এই বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই বাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। শৈশব, কৈশোর কেটেছে এই বাড়ি ঘিরে। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের আদরের ছেলে ছিলেন তিনি। তারা আদর করে তাকে ডাকতেন খোকা নামে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী বাড়িটি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বাড়িটি সংস্কার করা হয়। আট বছর আগে জরাজীর্ণ বাড়িটি আবার সংস্কার করা হলে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের নভেম্বের থেকে চুন, সুরকি, চিটাগুড়ের সঙ্গে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে শুরু হয় সংস্কার কাজ। প্রতœতত্ত্ব বিভাগের উপপরিচালক আমিরুজ্জামান পলাশ ও সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ কাজ তত্ত্বাবধান করছেন। সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, আট বছর আগে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটি সংস্কার করে। এতে বাড়ির পুরনো আদলে বেশ পরিবর্তন আসে। পরে বাড়িটি পুরনো আদলে ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্দেশ পাওয়ার পর প্রতœতত্ত্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা টুঙ্গিপাড়ায় এসে বাড়ির পুরনো ছবি ও ভবনের নির্মাণশৈলী দেখে পুরনো আদলে ফিরিয়ে দিতে একাধিক নকশা প্রণয়ন করেন। এগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই নকশার আদলে বাড়িটি সংস্কার করার অনুমতি দেন। সেই মোতাবেক পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনার নমুনা কাজ চলছে। এ নমুনা আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেটি দেখে অনুমোদন দিলে চূড়ান্ত কাজ করা হবে।