> সারাদেশে ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির ব্যাপক তৎপরতা > সব সরকারী হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস ইউনিট>
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাছাড়া দেশে নতুন করে আর কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হননি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরু করেছে ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি।’ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিগুলো ইতোমধ্যে সভা ডেকে ভাইরাস প্রতিরোধে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি সরকারী হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিরোধ কমিটির ভূমিকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিদেশ ফেরত বা কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও করোনাভাইরাস রোগী নন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুয়ায়ী বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই সব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। পাশাপাশি বিদেশ ফেরত সকল মানুষকে স্বেচ্ছায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার নিয়মিত অবহিতকরণ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা বলেন, আমি আপনাদের একটা ভাল খবরই দিতে পারব। মঙ্গলবার আমরা যে পরীক্ষা করেছি তাতে তিনজনের মধ্যে দুজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আপনারা জানেন যে, পর পর দুবার নেগেটিভ এলে আমরা তাদের ডিসচার্জ করে দিতে পারি। তিনজনের মধ্যে দুজন অলরেডি নেগেটিভ। তিনি আরও বলেন, আমরা আগেও বলেছি, তাদের কোন শারীরিক সমস্যা ছিল না। তারা সুস্থ আছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে প্রটোকল, সে অনুযায়ী আমরা তাদের রিলিজ করে দেব।
অধ্যাপক ডাঃ সেব্রিনা ফোরা বলেন, বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্বাস্থ্যসেবা মহাপরিচালক প্রফেসর ডাঃ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে গঠিত ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান-সমুদ্র-স্থলবন্দরে কয়েকটি স্থানে স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৫টি স্ক্যানার ক্রয় করেছে। এছাড়াও সামিট গ্রুপ ৫টি স্ক্যানার ক্রয় করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) হস্তান্তর করবে। কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা ও সহযোগিতার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার বিশ্ব ব্যাংক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ডাঃ ফোরা আরও বলেন, যে সব দেশে কোভিড-১৯ এর স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেছে সে সব দেশ থেকে যাত্রী আসবেন (দেশী-বিদেশী যে কোন নাগরিক) তাদের ১৪ দিন স্বেচ্ছা/ গৃহ কোয়ারেন্টিন- এ থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের কারও মধ্যে যদি কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা যায় তবে অন্য কোথাও না যেয়ে প্রথমেই আইইডিসিআর-এর হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো। পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ দেশে স্থানীয় সংক্রমণ ঘটছে। তাই যে দেশে আছেন যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করাই উত্তম। কারণ আরোহন, ট্রানজিট ও অবতরণের বিমান বন্দরসমূহের টার্মিনাল এবং বিমানের ভেতরে যে কোন যাত্রী/ ক্রু কোভিড-১৯ সংক্রমিত যাত্রী/ ক্রু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারেন। সংক্রমিত যাত্রী/ ক্রু যে দেশে অবতরণ করবেন সে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, প্রথমেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে আপনার পরিবারের সদস্যদের মাঝে। নিজেকে ও প্রিয়জনদের অতি সহজেই আপনি এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পারেন। তাই অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত বাংলাদেশীদের বিষয়ে অধ্যাপক ডাঃ ফোরা বলেন, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, ইতালি ছাড়া অন্য কোন দেশে এখনও পর্যন্ত কোন প্রবাসী বাংলাদেশী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হননি। সিঙ্গাপুরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশী রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়নি, আরেকজন প্রবাসী বাংলাদেশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দিল্লীতে উহান থেকে আগত ২৩ বাংলাদেশী নাগরিক দিল্লী শহর থেকে ৪০ মাইল দূরে একটি কোয়ারেন্টিনে আছেন। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি বলে জানান অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ প্রতিরোধে ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি, মেডিক্যাল ডিভাইস ইম্পোটার্স এ্যাসোসিয়েশন, ঔষধ ও মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনকারী, বিক্রয়কারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ প্রতিরোধে ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বাজারে ফেস মাস্ক অধিক মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। সর্ব সম্মতিক্রমে থ্রি লেয়ার সার্জিক্যাল ফেস মাস্কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিপিস ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অধিক মূল্যে ফেস মাস্ক বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফেস মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক একই ডিস্ট্রিবিউটরকে একটি ইনভয়েসে ৫০০ (পাঁচ শত) পিস এর বেশি ফেস মাস্ক সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৫০ এমএল প্যাক সাইজে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান করা হয়।











































