Home আঞ্চলিক করমজলে ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ পেড়েছে ৩৫ ডিম

করমজলে ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ পেড়েছে ৩৫ ডিম

73

 বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ ‘বাটাগুর বাসকা’ ৩৫টি ডিম দিয়েছে।

মঙ্গলবার চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল প্রজননকেন্দ্রের একটি ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ সেখানে ৩৫টি ডিম পাড়ে। করমজল কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে ৩৫টি ডিমকে ইনকিউবেশন (বালুর মধ্যে রেখে) করে বাচ্চা ফোটানোর কাজ করবে বন বিভাগ। এ প্রক্রিয়ায় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে দুই মাসের বেশি সময় লাগবে। মঙ্গলবার বাটাগুর বাসকা এ নিয়ে করমজল প্রজননকেন্দ্রে চতুর্থবারের মতো ডিম দিল এই বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ।

করমজল কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, এর আগে ২০১৭ সালে দুটি ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ ৬৩টি ডিম দিয়েছিল, যার মধ্য থেকে ৫৭টি ডিম থেকে বাচ্ছা হয়েছিল।

পরের বছর ২০১৮ সালে দুটি কচ্ছপ ৪৬টি ডিম দিয়েছিল, যার মধ্য থেকে ২৪টি ডিম ফুটে বাচ্চা হয়েছিল। ২০১৯ সালে একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের ৩২টি ডিমের সবগুলো থেকে বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল। উল্লেখ, ২০০০ সালের দিকে একদল গবেষক গবেষণা করে পৃথিবী থেকে ‘বাটাগুর বাসকার’ প্রজাতির কচ্ছপের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার আট বছর পর বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছর আদৌ আছে কিনা তা খুঁজতে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা দেশের নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে আটটি বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ পায়, যার মধ্যে ছিল চারটি পুরুষ ও ৪টি স্ত্রী কচ্ছপ।

এর পরই ওই কচ্ছপগুলোকে গাজীপুর প্রজননকেন্দ্রে নিয়ে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর রাখার পর ৯৪টি বাচ্চা পায়। পরে গাজীপুর থেকে ২০১৪ আটটি ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ ও তাদের ৯৪টি ছানাকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল প্রজননকেন্দ্রে আনা হয়।

বর্তমানে করমজলে প্রজননকেন্দ্রে চারটি স্ত্রী ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপসহ ১৮৩টি কচ্ছপের পরিচর্যা করছে বন বিভাগ।