আসাদুজ্জামান ইমন, ঢাকা//
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রেখেছিলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমের দিকে। তাই এখন নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে ইসি সচিবালয়। কমিশন সায় দিলেই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ভোট উৎসব। ইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন, প্রথম ধাপের স্থগিত থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর (ইউপি) নির্বাচনের আয়োজন করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বৈঠকে বসবে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা’র সভাপতিত্বে এই বৈঠকটি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে স্থগিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সিলেট-৩ শূন্য আসনের নির্বাচন সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে করতেই হবে। এছাড়া স্থগিত থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে: ১. সিলেট-৩ শূন্য আসনের স্থগিত নির্বাচন সম্পন্ন করা; ২. কুমিল্লা-৭ শূন্য আসনের নির্বাচন; ৩, স্থগিত ৯টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা; ৪, প্রথম ধাপের স্থগিতকৃত ১৬৭টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করা; ৫, ইউপির দ্বিতীয় ধাপের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম গ্রহণ; ৬, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচন এবং শূন্যপদে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ; ৭, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা; এবং বিবিধ।
নির্বাচন শুরু করার বিষয়ে ইসি’র অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, নির্বাচন করার জন্য আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি রাখা আছে। সোমবার বৈঠকে কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে নির্বাচন শুরু করা হবে। কমিশন বৈঠক শেষে এই বিষয়ে সংবদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটিও কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে। ইসি সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতি দেখে সভায় সিলেট-৩ আসনের ও প্রথম ধাপের স্থগিত হওয়া ইউপি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। পরবর্তীতে সেপ্টম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোটের তারিখ দিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন এবং তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে স্থগিত থাকা ইউপি ভোট আয়োজন করা হতে পারে। সূত্র আরও জানায়, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেপ্টেম্বরেই দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সিলেট-৩ আসনে দুইবার তারিখ দিয়েও ভোট সম্পন্ন করতে পারেনি ইসি। সর্বশেষ ২৮ জুলাই এই আসনে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা ছিলো। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ভোটের দুই দিন আগে, ২৬ জুলাই এই আসনের নির্বাচন ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ৫ আগস্ট এই আসনের নির্বাচন আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আইন অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই আসনে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউপিতে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করলেও করোনার কারণে সেখান থেকে ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত করে ২০৪ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হয়।
কমিশন সভার জন্য তৈরি করা নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রথম ধাপের স্থগিত করা ১৬৭ ইউপি’র মধ্যে ১৬৩ ইউপি’র ভোট যেখান থেকে স্থগিত করা হয়েছে, সেখান থেকে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। চারটি ইউপিতে একজন করে বৈধ চেয়ারম্যান প্রার্থী মারা যাওয়ায় এগুলোতে পুনরায় ১৪ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। করোনার উর্ধ্বগতির কারণে পরবর্তীতে এই নির্বাচনও স্থগিত করা হয়। সকল পদে একসংগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নতুন সময়সূচি জারির প্রয়োজন হবে। তবে চেয়ারম্যান পদে যারা মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদেরকে পুনরায় মনোয়নপত্র জমা দিতে হবে না। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট আয়োজনের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক বলেও কমিশন সভার জন্য তৈরি করা নথিতে উল্লেখ করা হয়। এখন কমিশন অনুমোদন করলেই এমন নির্বাচন আয়োজন করা হলে বলে জানায় ইসি সূত্র।









































