Home আঞ্চলিক দাকোপে লবন পানি তুলে অবৈধ ভাবে চিংড়ি চাষের অভিযোগ

দাকোপে লবন পানি তুলে অবৈধ ভাবে চিংড়ি চাষের অভিযোগ

21

মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ, দাকোপ

হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খুলনার দাকোপে প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি লবণ পানি তুলে অবৈধ ভাবে চিংড়ি চাষ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দীর্ঘকালের ঘের বিরোধী আন্দোলনের ফসল ভেস্তে যেতে বসেছে। জমাজমিতে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়খালী ও চক কামনিবাসীয়া মৌজার বেশির ভাগ জমাজমি বিলান। ওই এলাকায় ১৯৬৫ সালে উপকূলীয় বেড়ি বাঁধ নির্মানের পর থেকে ধান ও অন্যান্য ফসলাদির চাষাবাদ করে সবুজ বৈচিত্রে পূর্ব পুরুষানুক্রমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছে। কিন্তু অন্যান্য স্থানের ন্যায় ওই এলাকায় বেশ কয়েক বছর আগে থেকে এক শ্রেণীর স্বার্থনেষী ব্যক্তি লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ করে আসছিল। এতে দিন দিন এলাকার গাছপালাসহ সবুজ পরিবেশ চরম ভাবে বিনষ্ট হতে থাকে। এক পর্যায়ে চিংড়ি চাষ বন্ধে গোটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ কঠোর আন্দোলনে নামে যা পরবর্তীতে হাই কোর্ট অবদি গড়ায়। বর্তমানে সব এলাকায় চিংড়ি চাষ বন্ধ হলেও পাউবোর ৩১নং পোল্ডারের ওই দুই মৌজায় কতিপয় প্রভাবশালী স্বার্থনেষী ব্যক্তি অব্যহত রেখেছে। গতবারের ন্যায় এবারও সম্প্রতি সুবিধাবাদী সাবেক এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে অল্প দিনে অধিক লাভের আশায় অপকৌশলে পাউবোর সরকারী স্লুইচ গেট ব্যবহার করে লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ শুরু করেছে। এনিয়ে বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।   

গড়খালী এলাকার তন্ময় সরকার, নারায়ন সরকার, কামনিবাসীর আকিজ উদ্দিন গাজীসহ আরো অনেকে বলেন লবণ পানি তোলার ফলে জমির উর্বরতা কমে আসছে। যে কারনে জমিতে একমাত্র ধানের ফসল অনেক কম হচ্ছে। গত বছর গড়খালী এলাকার কাটাখালীর সরকারী গেটের খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে লবণ পানি আটকিয়ে রাখার ফলে এবার এলাকার প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে এক প্রকার আমন ফসল হয়নি বললে চলে। এছাড়া লবণ পানির ঢেউ লেগে কাঁচাপাকা রাস্তাঘাট প্রতিনিয়ত ধ্বসে পড়ছে। বিশেষ করে এলাকার গাছপালাসহ সবুজ বৈচিত্র ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এসব কারনে লবণ পানি তোলা বন্ধে প্রতিকার চেয়ে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানান।

এপ্রসঙ্গে নাগরিক পরিষদ ও ঘের বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি সাবেক চালনা পৌর মেয়র অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল এ প্রতিবেকের সঙ্গে আলাপকালে জানান এলাকার সবুজ বৈচিত্রের পরিবেশ রক্ষায় এবং জনসাধরণের জমিতে একমাত্র আমন ফসল বৃদ্ধির লক্ষে লবণ পানি বিরোধী আন্দোলন করেন। এমনকি তিনি বাদী হয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আইনি সহায়তায় হাই কোর্টে একটি রিটও করেন। পরবর্তী রিট শুনানীতে কোর্ট লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং তা বহাল আছে। তিনি লবণ পানি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।

এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন পরিবেশের ক্ষতি এবং সরকারী সম্পদ নষ্ট করে চিংড়ি চাষ করা যাবে না। আর করলে তাদের বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর বিভাগ-২ নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেয়ার পরও বার বার ভেস্তে যাচ্ছে। এলাকায় মাইকিং করে গড়খালীর ৬নং সরকারী গেটের মুখ বাঁধ দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। এপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন ওই এলাকায় মাইকিং করে লবণ পানি উত্তোলন করতে নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কেউ পানি তোলে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।