খুলনাঞ্চল ডেস্ক ।।
বরখাস্ত করা হয়েছে আফগানিস্তানের সেনাপ্রধানকে। তালেবানকে ঠেকাতে না পারার অভিযোগ কাঁধে নিয়ে সরে যেতে হয়েছে তাকে। গতকাল বুধবার সেনাপ্রধান ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাইরকে অপসারণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। গত জুন থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার উত্তরসূরিকে দেশজুড়ে তালেবানের সহিংসতা মোকাবিলা করতে হবে। কারণ দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে বর্তমানে ৯টি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।
সর্বশেষ গজনি শহরে প্রবেশ করেছে তালেবানরা। সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তীব্র লড়াই চলছে। এরই মধ্যে তালেবানবিরোধী ঐতিহ্যবাহী মিলিশিয়াদের সঙ্গে বৈঠক করতে উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফে সফর করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। উজবেক নেতা আবদুল রশিদ দোস্তাম ও আত্তা মোহাম্মদ নুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট।
আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যুদ্ধবাজ নেতাদের সবসময় দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছেন আশরাফ ঘানি। কিন্তু তালেবানের হামলার মুখে এবার তাদের দারস্থ হতে হয়েছে তাকে। মাজার-ই-শরিফের অবস্থান উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্তে। তালেবানের হাতে শহরটির পতন হলে উত্তর আফগানিস্তানের ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে আশরাফ ঘানি সরকার।
আফগানিস্তানের একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র মাজার-ই-শরিফ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির সরবরাহ পথ বলা হয় এই শহরটিকে। শহরটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেই সেখানে সফর করেছেন আশরাফ গনি।
এদিকে ত্রিশ দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে তালেবান বিদ্রোহীরা এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে তারা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী জোরালোভাবে প্রতিরোধ গড়লে তালেবানকে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব। কাজেই এ নিয়ে আগে থেকেই কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। বর্তমানে আফগানিস্তানের ৬৫ শতাংশ অংশের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে।
আফগানিস্তানের আরও তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর পতন হয়েছে তালেবান বিদ্রোহীদের হাতে। গত মঙ্গলবার একদিনেই তিনটিসহ এ পর্যন্ত মোট ৯টি প্রাদেশিক রাজধানীতে তারা পতাকা উড়িয়েছে।
সর্বশেষ বিজয়ী তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী হচ্ছে-কাবুল থেকে দেড়শ কিলোমিটার উত্তরের বাগলান প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-খুমরি, পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ফারাহের একইনামের রাজধানী ও অসমতল বাদাখসানের রাজধানী ফাইজাবাদ।










































