Home আঞ্চলিক স্থানীয় নদীতে ইলিশের আকাল: দাকোপে হাজারো জেলে পরিবার হতাশ

স্থানীয় নদীতে ইলিশের আকাল: দাকোপে হাজারো জেলে পরিবার হতাশ

5

মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ দাকোপ ।।

ভরা মৌসুমেও খুলনার দাকোপে বিভিন্ন নদীতে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় উপজেলার হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদিকে ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছেন এলাকার জনসাধারণ।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পৃথক ৩টি দ্বীপের সমন্বয় গঠিত এই উপজেলা। এর চারপাশে নদী দিয়ে পরিবেষ্টিত। এক সময়ে এঅঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য আহরনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর এ মৎস্য আহরনের অভয়ারণ্য ছিল উপজেলার উল্লেখযোগ্য কাজীবাছা, মাঙ্গা, পশুর, ঝপঝপিয়া, ঢাকী, ভদ্রা ও শিপসা নদী। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহ¯্রাধিক জেলে পরিবার এর উপর নির্ভরশীল। এসকল জেলেরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ ও মহাজনের দাদন নিয়ে জাল নৌকা কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু দিনরাত নদীতে জাল ফেলেও ইলিশ না পেয়ে তাঁরা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এমনকি ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না এসব জেলেরা। যে কারনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও ক্রেতাদের সাথে ইলিশের দেখা মিলছে কম। মাঝে মধ্যে দুই একজন জেলের জালে দুই একটি মাছ ধরা পড়লেও বাজারে তার দাম আকাশ ছোঁয়া। যা সাধারন মানুষ কিনে খেতে পারছেন না। এনজিও ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় তাদের সাথে প্রায়ই বাক-বিতন্ডা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে আবার আত্মগোপন করেও থাকতে হচ্ছে অনেক জেলেকে। অন্য কোন আয়ের উৎস্য না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার এসকল জেলে পরিবারগুলো। জেলেদের পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাছেন। এতে জেলেরা অর্থ কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার সাধারন মানুষও রূপালী ইলিশ মাছের স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ইলিশের দেখা না পেয়ে ইতি মধ্যে এ পেশা ছেড়ে কেউ কেউ আবার অন্য পেশা শুরু করে সংসার চালাছেন। সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে তাদের কিছুটা মাথা গোজার ঠাই হতো বলেও এসব জেলেরা জানান।

পশুর নদীর জেলে শিবপদ মন্ডল জানান, তাঁর একমাত্র পেশা মাছ ধরা এবং তা বিক্রি করে সংসার চালানো। চলতি মৌসুমে মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে জাল কিনে এবং নৌকা ভাড়া করে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু কয়েক দিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে ২টি ইলিশ মাছ পেয়েছেন। একটি মাছ ছোট হলেও অপরটির ওজন এক কেজির উপরে। তবে এই প্রথম তিনি মাছ বিক্রি করবেন। তাঁর মতো একাধিক জেলে একই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মাছ বাজারে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পানখালী এলাকার ফাল্গুণী হালদারের সাথে। তিনি বলেন তাঁর দুই মেয়ে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছেন। স্থানীয় নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি বিধায় মাছ কিনতে গিয়েছেন। তবে তাঁর মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে ১৫০০ টাকা কেজি দরের চড়া মূল্যের ইলিশ মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

এব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন বরিশালের দিকে ভালো ইলিশ মাছ পড়ছে। স্থানীয় নদীতে এখন দুই একটা মাছ পড়ছে। হয়তো আর কিছুদিন গেলে বেশি মাছ পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।