শরণখোলা প্রতিনিধি ।।
জোয়ার, জলোচ্ছ্বাসের পানি থেকে রক্ষায় টেকসই বাঁধের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০১৬ সালে বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলায় শুরু হয় সেই বহুপ্রতীক্ষিত বাঁধের কাজ। প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআইপি-১) আওতায় নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু সেই বাঁধের কারণেই সেখানকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। পানি সরাতে কাটা হচ্ছে সেই প্রতীক্ষিত বাঁধ। জলমগ্ন এলাকার পানি অপসারণে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের কালিয়ার খাল এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। পানিবন্দী মানুষ এর আগে রোববার রাতে উপজেলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের বটতলা পয়েন্টে বাঁধ কেটে দিয়েছিলেন।
গত ২৭ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে শরণখোলার প্রায় ৩৫টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এতে ভেসে যায় ১ হাজার ৫০০ মাছের ঘের ও পুকুর। পানিতে তলিয়ে যায় ৭৩০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা।
এদিকে পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে গতকাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানি সরাতে বাঁধ কাটার কাজ শুরু হয়। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পানিবন্দী এলাকার মানুষ।
স্থানীয় রাজৈর গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘বেড়িবাঁধ আমাদের খুবই দরকার। কিন্তু বেড়িবাঁধে প্রয়োজনীয় স্লুইসগেটের অভাবে ঠিকমতো পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আজ সাত দিন হলো আমরা পানিবন্দী।’
২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে ওই এলাকার মোস্তাফা শেখ তাঁর মা–বাবা, ভাইসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উঁচু বাঁধ থাকলে হয়তো সেদিন পানির তোড়ে আমাগো পরিবারটা শ্যাষ হয়ে যাইত না। এখন বাঁধ হইল, কিন্তু এবার বাঁধের মদ্দিই আমরা পানিতে চুবানি খাইয়ে মরতিছি।’
বাঁধ কেটে পানি অপসারণ শুরু হওয়াতে খুশি স্থানীয় এসব বাসিন্দা। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা। এ জন্য সঠিক পরিকল্পনা করে পর্যাপ্ত জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাঁদের।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, ৬২ কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে খালের মুখে অন্তত ৫০টি জলকপাট প্রয়োজন ছিল, কিন্তু নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ৩১টি। এ কারণে পানি নামতে না পেরে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় ফসলের মাঠসহ এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাউবোর বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইসগেট না থাকায় বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নামতে পারছিল না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিইআইপি-১–এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাঁধ কেটে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করেছি। বাঁধে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
সিইআইপি-১ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে শরণখোলা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি ইউনিয়নের নয়টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে পাইপ বসিয়ে দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











































