Home জাতীয় ঢাকা মহানগর বিএনপি’র কমিটি: নারী সদস্যরা উপেক্ষিত, বেঁধে দেওয়া হয়নি সময়সীমা

ঢাকা মহানগর বিএনপি’র কমিটি: নারী সদস্যরা উপেক্ষিত, বেঁধে দেওয়া হয়নি সময়সীমা

10


নিয়াজ মাখদুম ।।

গত রবিবার (০১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর বিএনপি’র উত্তর এবং দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৪৯ এবং ৪৭ সদস্যের দুই আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি প্রয়োজনীয়সংখ্যক নারী নেতৃত্ব। অথচ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের শর্ত অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের নারী নেতৃত্ব ৩৩ শতাংশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা ছিলো। কোনও দলই এখনও সেই শর্ত পূরণ করেনি।

বিএনপি’র কমিটিতে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ৪৯ সদস্যের মধ্যে মাত্র তিনজন নারী জায়গা পেয়েছেন। তাঁরা সদস্য হিসেবে আহ্বায়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এদের প্রত্যেকেই সরাসরি ছাত্রদল থেকে বিএনপি’র মহানগরে এসছেন; যা এবারই প্রথম। অবশ্য বেশ জুনিয়র দু’জনকে মহানগর কমিটিতে সদস্য করায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকে।

নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে মহানগর উত্তর কমিটির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ৪৭ সদস্যের মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র একজন। এর আগেও মহানগরের এই কমিটিতে নারী সদস্যের উপস্থিতি কম ছিলো।

প্রসংগত, নির্বাচন কমিশন ২০১৮-তে নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তাদের নারী নেতৃত্বের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চায়। জবাবে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ২০২০-এর মধ্যে শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়। অবশ্য পরে দলগুলো নারী নেতৃত্বের ৩৩ শতাংশ পূরণের জন্য ২০৩০ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। নির্বাচন কমিশন সেই আইনের সংশোধনী নিয়ে কাজ করছে বলে জানা যায়।

এই প্রসংগে বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপিতে অনেক যোগ্য নারী রয়েছেন, যারা মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন। আশা করি, বিএনপি’র হাইকমান্ড উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এটা বিবেচনা করবেন।’

কমিটিতে নতুন মুখঃ

গণমাধ্যমে পাঠানো কমিটির তালিকায় দেখা গেছে, মহানগরের দুই কমিটিতে অনেক নতুন মুখ ঠাঁই পেয়েছেন। মহানগরে রাজনীতি করেননি এমন অনেকের জায়গা হয়েছে কমিটিতে। বিপরীতে পুরনো অনেকে বাদ পড়েছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সদস্য সচিব হয়েছেন রফিকুল আলম মজনু। মূল দলের মহানগর কমিটিতে নতুন হলেও যুবদলের মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ছিলেন মজনু। দলের জন্য তাঁর ত্যাগ রয়েছে। মামলা এবং কারাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ,

সিনিয়র সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বাবা সাদেক হোসেন খোকা’র মৃত্যুর পর বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে বাবার শূন্যস্থান পূরণে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন এই তরুণ নেতা। অল্পদিনেই নেতা-কর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দলীয় রাজনীতি ছাপিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও এখন পরিচিত মুখ ইশরাক হোসেন। এছাড়া আরিফা সুলতানা রুমা, রাজন, আবুল খায়ের লিটন, নাছরিন রশীদ পুতুল, নাদিয়া পাঠান পাপন, জামশেদুল আলম শ্যামলসহ আরও কয়েকজন মহানগরের রাজনীতিতে নতুন।

বাদ পড়েছেন যারাঃ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবও। দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতা। এছাড়া আগের কমিটির ত্যাগী নেতা কাজী আবুল বাশার, হাবিবুর রশীদ হাবিব, নাসিমা আক্তার কল্পনা, হামিদুর রহমান হামিদ, মীর হোসেন মিরু, শেখ রবিউল আলম রবি, তানভীর আদেল খান বাবু, মীর আশরাফ আলী আজম, সাইফুল ইসলাম পটু, আলমগীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম রাসেল, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া, জাফর সাদেক, খবিবুর রহমান খোকন, হামিদুল হক, জয়নাল আবেদীন (রতন চেয়ারম্যান), মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, আলী রেজাউল করীম রিপন, মোয়াজ্জেম হোসেন খান, শাহেদা মোর্শেদ, বাদল কমিশনারসহ অনেক নেতারই জায়গা হয়নি সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে।

মহানগর উত্তরঃ

মহানগর উত্তর শাখায়ও একঝাঁক নতুন মুখ এসেছেন। আমিনুল হক খেলা থেকে অবসর নিয়ে পাঁচ বছর আগে বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত হন। সাবেক এই তারকা ফুটবলার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পদসহ এবার জায়গা করে নিলেন মহানগর উত্তর কমিটিতে। দলের জন্য নিবেদিত আমিনুল হকের নেতা-কর্মীদের সংগে রয়েছে সুসম্পর্ক।

সিনিয়র সদস্য করা হয়েছে উত্তরের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে সক্রিয় হন বিএনপি’র রাজনীতিতে। ইতিমধ্যে নেতা-কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। এছাড়া সদস্যদের বেশিরভাগই নতুন মুখ।

সাবেক সভাপতি এম এ কাইউম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, সহ-সভাপতি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানসহ অনেক পুরনো নেতার ঠাঁই হয়নি সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে।

সময়সীমা নেই:

নিয়মানুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হলে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি ঘোষণার পর আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ থাকে তিন মাস। এর মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়ার কথা। কিন্তু দুই শাখার আহ্বায়ক কমিটির ক্ষেত্রে তা সুষ্পষ্ট করা হয়নি।

এই প্রসংগে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও দফতরের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, কমিটি ঘোষণা হওয়ার দুই-চার দিন পরে আলাদা চিঠি দিয়ে সময়সীমার বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই দায়িত্বশীল নেতাদের তা জানিয়ে দেওয়া হবে।