Home জাতীয় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে নারী পুলিশ

চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে নারী পুলিশ

12

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

হালিমা আক্তার। ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি)।  নারী হলেও কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি কিংবা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুরুষ সহকর্মীর মতো সমানতালে তা মোকাবিলা করতে হয় তাকেও। ৮ মার্চ (রোববার) আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে আলাপ হয় হালিমার।  আলাপে নিজের দায়িত্ব, সামাজিক প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। চাকরির শুরুর দিকের প্রসঙ্গ নিয়ে হালিমা বলেন, বছরখানেক হলো কাজে যোগ দিয়েছি। এরপর থেকেই ‘রাস্তায়’।  নারী হলেও পুরুষ সার্জেন্টের মতো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক কিংবা অলিগলিতে ছুটে বেড়াতে হয়। সড়কে যানবাহন লেন মেনে চলছে কিনা, কাগজপত্র পরীক্ষা করা, ক্রটি পেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা কিংবা মামলা করতে হয়। এসব কাজ প্রতিনিয়ত পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হচ্ছে। আর কাজ ঠিকমতো করতে না পারলে সিনিয়র শাস্তি দিতে পারেন এই চিন্তাও থাকে। রাজপথে কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যায়ও পড়তে হচ্ছে বলে জানান ট্রাফিক সার্জেন্ট হালিমা। ২০১৭ সালে ২৮ নারী সার্জেন্ট পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজপথে কাজ শুরু করেন নারী পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) আমেনা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘পুলিশ নারীবান্ধব নয় এটা বলবো না।  নারীবান্ধব বিষয়টি অন্যরকম। তবে নারীর প্রতি পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। যেটি পুলিশে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবর্তন এসেছে। পুলিশে নারীর সংখ্যা বেড়েছে।  বেড়েছে সম্মান, মর্যাদা ও মেধার প্রতিফলন।  যারা পুলিশ বাহিনীতে পুরুষের মতো সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে কাজ করছেন প্রায় ২শ’ নারী সদস্য। এছাড়া সিএমপিতে ২০, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) ছয়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপিতে) নয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে (কেএমপি) আট, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপিতে) দুই, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) দুই জন নিয়োজিত রয়েছেন। এসব নারী পুলিশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্য সামনে রেখে ২০০৮ সালে চালু করা হয় ‘উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্ক।’ অপরাধ দমন ও নিরাপত্তায় নারীরা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন নারী পুলিশ সদস্যরা, পিছিয়ে নেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও। পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘বর্তমানে নারী পুলিশের কাজের ক্ষেত্র যেমন প্রসারিত হয়েছে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে।  চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে চলা নারী পুলিশের সফলতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরেও।  একটা সময় ছিল যখন নারী পুলিশ মানেই শুধু দাফতরিক দায়িত্ব পালন।  কিন্তু এখন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন নারী সদস্যরা। নিরাপত্তার পাশাপাশি টেকসই পুলিশি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।’

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত মোট নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৭ জন। যা পুলিশের মোট জনবলের শতকার ৬ দশমিক ৯৬৫ শতাংশ। তবে চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়েছে। যা কর্মরত নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত প্রায় ১:১৩। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পথম শ্রেণির নারী কর্মকর্তা রয়েছেন দুইশ ৭৪ জন। ১৯৮৬ সালে প্রথম সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে ফাতেমা বেগমের যোগদানের মাধ্যমে পুলিশে উচ্চ পর্যায়ে (বিসিএস) নারীদের নিযোগ শুরু হয়। এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, কর্মক্ষেত্রকে নারী পুলিশ চ্যালেঞ্জে হিসেবে নিলেও বিভিন্ন সময় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তারা যৌন হয়রানিরও শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।  আর এসব অভিযোগের বেশিরভাগই কনস্টেবল পদ মর্যাদার।