Home আঞ্চলিক মুচলেকা দিলেন কোচিং বাণিজ্যে জড়িত ২৭ শিক্ষক

মুচলেকা দিলেন কোচিং বাণিজ্যে জড়িত ২৭ শিক্ষক

6

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে কোচিং বাণিজ্য মেতে উঠেছিলেন যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরের ৩০-৩৫ জন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক। ঘরে বসে মাসিক বেতন গুনলেও এই শিক্ষকরা করোনাভীতি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসায় বা ঘর ভাড়া নিয়ে রমরমা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকটি দৈনিকে সেই শিক্ষকদের বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে ৩২জন স্কুল-কলেজ শিক্ষকের নাম উঠে আসে।
প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসলে নড়েচড়ে বসেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ উপজেলা প্রশাসন।রোববার (৬ জুন) বিকেলে সেই ৩২জন শিক্ষককে নিজ দপ্তরে ডেকে পাঠান মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান। যাদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষক ইউএনও অফিসে হাজির হয়ে কোচিং না করানোর শর্তে মুচলেকা দেন।
মুচলেকা দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে নুরুন্নবী, মকলেছুর রহমান, ফজলুর রহমান, সায়ফুল আলম, কামরুজ্জামান, গৌতম কুমার, আব্দুস সবুর, ধীমান চন্দ্র, পিয়াস হোসেন, আহাদ আলী, কামরুজ্জামান, বিজন বন্ধু, ইনামুল হাসান, মহানন্দ কুমার, সঞ্জয় কুমার, হাফিজুর রহমান, সুকুমার দাস, ফারুক আল মাসুদ, শাহিন আলম ও নমিতা মল্লিকের নাম জানাগেছে।
এদিকে ইউএনও অফিস থেকে বের হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুচলেকা দেওয়া কয়েক শিক্ষক। তাদের দাবি, উপজেলার রাজগঞ্জ, ঢাকুরিয়া, মশিয়াহাটি ও নেহালপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতনভূক্ত শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িত আছেন। তাদের পড়ানোও বন্ধ করতে হবে।
মণিরামপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, করোনাকালীন কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো নিষিদ্ধ। সম্প্রতি এই কাজে জড়িত ৩২ শিক্ষকের নাম প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। তাদেরকে ডেকে মুচলিকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যে সব শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে কোচিং-এ জড়িত শিক্ষকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা আর এই কাজ করবেন না মর্মে অঙ্গিকার দিয়েছেন। এরপরও কেউ কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুধু করোনাকালীন নয় সরকারি নিদের্শনা উপেক্ষা করে মণিরামপুরে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকরা কোচিং বণিজ্যে জড়িত রয়েছেন বহু আগ থেকে। কোন আইন করেও এদের থামানো যাচ্ছে না।