খবর বিজ্ঞপ্তি
আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও অনন্য স্থাপত্য শৈলের ছদ্মাবরণে খুলনাবাসীকে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ, ভয়াবহ অপরিকল্পিত ও গোজামিলে ভরা একটি নতুন রেলস্টেশনের নামে মৃত্যুফাঁদ উপহার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। যে ফাঁদের শিকার হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. মিজানুর রহমানকে জীবন দিতে হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত ছোটখাট দূর্ঘটনাসহ স্টেশনে আসা যাত্রীদেরকে নানা হয়রানি লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। স্টেশনটির নির্মাণকাজ চলাকালেই সচেতন মহল সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে এখন প্রতিনিয়ত সংকট বাড়লেও মিলছেনা প্রতিকার। নগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে অবিলম্বে রেল স্টেশনের সব ধরনের ত্রুটি অপসারনের জোর দাবি জানিয়ে বলেছেন, মেগা প্রকল্পের নামে ক্ষমতাসীনদের মেগা লুটপাটের বলি হতে আর রাজি নয় খুলনাবাসী।
বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, শত বছরের প্রাচীন রেলস্টেশনে নারী-শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থ যাত্রীদেরকে কোলে চড়ে ট্রেনে উঠতে হতো। খুলনাবাসীর দাবি ছিল দেশের রাজশাহী, নওয়াপাড়াসহ অন্যান্য স্টেশনের মতো প্লাটফর্ম ও রেলের পাটাতন একই লেভেলের হবে। প্লাটফর্ম ও রেল বগির মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব থাকতে হবে, কোন ফাঁকা থাকতে পারবেনা যাতে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়ে কেউ ট্রেনের নিচে চলে যায়। টিকিট কাউন্টারে পর্যাপ্ত জনবল থাকবে। ওয়েটিং রুম, টয়লেট হবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত ফ্যানের মাধ্যমে বাতাসের ব্যবস্থা থাকবে। পৃথক গোডাউনে মালামাল সংরক্ষিত হবে। কিন্ত এর একটি চাওয়াও পূরণ হয়নি। এখন স্টেশনের প্লাটফর্ম থেকে রেলের পাটাতনের দূরত্ব থাকছে ২৩ ইঞ্চি বা প্রায় দুই ফুট। বগি থেকে প্লাটফর্মের এতোটাই দূরত্ব যে অসাবধানতায় কেউ পড়ে গেলে তার ট্রেনের তলে চলে যাওয়া অবধারিত। অসুস্থ-বৃদ্ধ এবং শিশুদেরকে এখনও কোলে চড়ে বা অন্যের সাহায্যে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। উদ্বোধনের আগেই প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। ছয় টিকিট কাউন্টারের দুটো মাত্র খোলা থাকে। আর থাকে আর্ন্তজাতিক কাউন্টার। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়েও সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে যাত্রীরা কাংখিত টিকিট পাননা। এখানে কোন ফ্যান না থাকায় যাত্রীদেরকে গরমে নাজেহাল হতে হয়। ওয়েটিং রুম ও সংলগ্ন বাথরুমের পরিবেশ নোংরা ও গন্ধময়। স্টেশনে গোডাউনের অস্তিত্ব আছে কিনা জানেনা কেউ! কারণ পরিবাহী সমস্ত মালামাল প্লাটফর্মের ওপরেই স্তুপাকারে রাখা থাকে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও ঝুকি বাড়ে। এ নিয়ে অনেকবার প্রতিবাদ করা হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। অথচ এ স্টেশনটি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ড. মিজানুর রহমানের মতো আর কতো জীবন চলে গেলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চান বিএনপি নেতারা।
বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।










































