Home আঞ্চলিক নেই সংযোগ রাস্তা, কাজে আসছে না ব্রিজটি

নেই সংযোগ রাস্তা, কাজে আসছে না ব্রিজটি

5



মণিরামপুরের কুলটিয়া ইউপির দহকুলা ও হরিদাসকাঠি ইউপির বাহাদুরপুর গ্রাম দুইটির বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে একটি খাল। দুই গ্রামকে যুক্ত করতে ১৮ বছর আগে দহকুলা খালের উপর নির্মিত হয়েছে আট লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ। দুই গ্রামের মানুষের সুবিধার কথা ভেবে ব্রিজটি তৈরি হলেও বেশিদিন তা কাজে লাগাতে পারেননি ওই এলাকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতায় সংযোগ সড়ক ধুয়ে তলিয়ে যাওয়ায় এখন এই ব্রিজের উপর দিতে চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি অব্যবহৃত থাকলেও সেটি চালু করতে উদ্যোগী হননি দুই ইউপির কোন চেয়ারম্যান।

মূলত দুই ইউপির সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে নজর দিচ্ছেন না কেউ।দহকুলা গ্রামের গৌর মণ্ডল বলেন, ব্রিজ হওয়ার পর দুই পাশে উঁচু করে মাটি ফেলেছে। কিন্তু রাস্তায় মাটি দেয়নি। দুই ইউনিয়নের শেষ মাথায় হওয়ায় এক চেয়ারম্যান অন্য চেয়ারম্যানরে ঠেলা দিচ্ছে। কেউ রাস্তা সংস্কার করছেন না।ওই গ্রামের কালিপদ মণ্ডল বলেন, পাড়িয়ালি, বাগডাঙা ও দহকুলা গ্রামের কৃষকদের অধিকাংশ জমি খাল পেরিয়ে ওপারে। কৃষকদের ওই জমিতে যেতে হলে বা ফসল তুলতে হলে খাল পার হয়ে যেতে হয়। সেই কারণে ২০০২ সালে খালের উপর ব্রিজটি নির্মিত হয়। গত কয়েক বছরের জলাবদ্ধতায় ব্রিজের দুই পারের রাস্তা ধুয়ে মাঠের সাথে মিশে গেছে। কেউ আর মাটি না দেওয়ায় রাস্তার অস্তিত্ব এখন আর নেই। জমিতে যেতে হলে আমাদের অন্যগ্রাম হয়ে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে।এই কৃষক বলেন, ভূলবাড়ীয়া গ্রামের ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী বাগডাঙা হাইস্কুলে যায়। শিক্ষকরা অনেকবার বলেও মেম্বর চেয়ারম্যান দিয়ে রাস্তায় মাটি ফেলাতে পারেননি।

ফলে বাচ্চাদেরও কষ্ট হচ্ছে। এই ব্রিজের জন্য আমরা মরে আছি।দহকুলা খাল মাড়িয়ে বাহাদুরপুর মৌজায় মাছের ঘের করতে আসেন পাড়িয়ালি গ্রামের বাসুদেব। তিনি বলেন, ঘেরের পাড় দিয়ে সরকারি রাস্তা থাকলেও চেয়ারম্যান মেম্বর মাটি দেচ্ছেন না। আমি ঘের কেটে রাস্তায় মাটি দিয়ে উঁচু করিছি। রাস্তার বাকি অংশ খাল হয়ে পানি জমে আছে।বাগডাঙা-দহকুলা ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুর রউফ বলেন, ব্রিজ পার হয়ে ওপারে রাস্তার কিছু অংশ আমার মধ্যে। চেয়ারম্যানকে বলে একবার কাবিখার বরাদ্দ দিয়ে ওপারে রাস্তার কিচু অংশ মাটি দিয়ে উঁচু করিছি। আর কোন সময় মাটি দেওয়া হয়নি। তাই বর্ষা মৌসুমে খালের সংযোগ রাস্তাটি তলিয়ে যাচ্ছে।

মানুষজনের কাজে আসছে না ব্রিজটি।আর ব্রিজটির সংযোগ রাস্তার ব্যাপারে ভাল তথ্য দিতে পারেননি কুলটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র।হরিদাসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাড়ে বলেন, ওই ব্রিজটি কুলটিয়া ইউপির মধ্যে। ব্রিজ ও রাস্তা সচল রাখতে ওই ইউপির চেয়ারম্যানকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি উদ্যোগ না নিলে আমার অংশের রাস্তায় কাজ করিয়ে লাভ নেই।তবে দহকুলা খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি সচল রাখতে দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক সংস্কারে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবেন, এমনটি প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

-আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর