Home আঞ্চলিক খুলনায় শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান স্মরণ মেনন: ফের পাটকলগুলোকে ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেয়ার...

খুলনায় শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান স্মরণ মেনন: ফের পাটকলগুলোকে ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে

13

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, পাট আমাদের আত্ম পরিচয়ের অংশ। এই পাটকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে প্রথমে পাট শিল্পকে ব্যক্তিমালিকানায় ও পরে বন্ধ করে দেয়। তারা আদমজী পাটকল বন্ধ করতেও দ্বিধা করেনি। কিন্তু পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকার পাটশিল্পকে পুনরুদ্ধার করেছেন। এখন তারাই আবার বিশ্বব্যাংকের পরামর্শের ধারাবাহিকতায় পাটশিল্পকে সংকটের মধ্যে ফেলছেন। এখন পাট শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-হপ্তা না দিয়ে হতাশ করে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পাটকলগুলোকে ফের ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু পাটকল শ্রমিক নয়, গোটা দেশের মানুষকে এ ষড়যন্ত্র রুখতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সাবেক সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান ভুঁইয়া স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বিকালে খুলনার ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে প্রয়াত হাফিজুর রহমানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা ও মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি এ সভার আয়োজন করা হয়। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের ক্রান্তিকাল চলছে। মালিকারা সুযোগ নিচ্ছে। এ সময়ে কমরেড হাফিজুর রহমানের খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ব্বোচ ডিগ্রি নিয়েও শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করেছেন। পদন্নোতি বা কোন প্রলোভনে পা দেননি।

খুলনা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য শিক্ষাবিদ ড. সুশান্ত দাস, অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য দিপংকর সাহা দীপু, মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মোল্লা, নগর সাধারণ সম্পাদক ফারুক উল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সন্দীপন রায়।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি তেল, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দব্যের উর্দ্ধগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃষক তাঁদের উৎপাদিত ফসলের মূল্য পাচ্ছে না। অথচ বাজারে সবকিছুর মূল্যই লাগামহীনভাবে বাড়ছে। মধ্যসত্ত্বভোগী সিন্ডিকেটের যাতাকলে কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ অসহায় পড়েছে। মানুষ সরকারের উপর আর আস্থা রাখতে পারছে না। তাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

স্মরণ সভার শুরুতে গণশিল্পীর শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া প্রয়াত নেতার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।