মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
গত বোরো মৌসুমের মত এবারও আমনের ধান চাল সংগ্রহে ভাটা পড়েছে যশোরের মণিরামপুর সরকারি খাদ্যগুদামে। অমনের মৌসুম শেষে নতুন করে বোরো চাষ শুরু করেছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা। কিন্তু মণিরামপুর সরকারি খাদ্যগুদাম এখনো কোন ধান চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। কৃষকদের জন্য গুদাম উন্মুক্ত করা হলেও সরকারি দামের থেকে ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা গুদামে ভিড়ছেন না।
আর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে চালের বাজার বেশি হওয়ায় চুক্তিভুক্ত মিলাররা গুদামে চাল দিতে পারছেন না।
চলতি আমন মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে ৮৭৭ টন ধান ও ৫৬৫ টন চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২৬ টাকা কেজি দরে প্রতিমণ ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪০ টাকা। আর চালের কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিকেজি ৩৭ টাকা। গত পাঁচ নভেম্বর এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে খাদ্য মন্ত্রনালয়। সাত ডিসেম্বর থেকে ধান চাল ক্রয় শুরু হয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা। নির্ধারিত সময় শুরু হয়ে ১৬ দিন পার হলেও এখনো ধান চাল ক্রয় কাজের উদ্বোধন করতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন আড়ৎদাররা এক হাজার ৪০ বা ৫০ টাকায় মোটাধান এবং এক হাজার ১৫০ টাকায় চিকন ধান কিনছেন।
কার্ডধারী কৃষক উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, গুদামের চেয়ে বেশি দামে আমরা বাড়িতে বসে ধান বেচতে পারছি। গুদামে নিলে ধানের আদ্রতা মেপে ঠিক না হলে ফেরত আসতে হয়। ফলে গুদামে যেয়ে হয়রানির কোন মানে হয়না।
মণিরামপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, গুদামের চেয়ে খোলাবাজারে মোটা চালের কেজি ৫-৬ টাকা বেশি। মিলারদের লসে হচ্ছে। তারপরও চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় চাল দিতে হবে। আমরা চাল প্রস্তুত করছি। দ্রুত গুদামে চাল দিতে পারব।
মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, এবার কার্ডধারী কৃষকদের জন্য গুদাম উন্মুক্ত করা হয়েছে। কোন কৃষক ধান নিয়ে আসেনি। মিলাররা এখনো চাল দেয়নি।
মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, গুদাম উন্মুক্ত হওয়ায় একজন কৃষক সর্বোচ্চ ছয়টন ধান দিতে পারবেন। কিন্তু বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক গুদামে আসছেন না। ৪৬ জন মিলারের মধ্যে এবার ৪১ জন চাল দেওয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চালের জন্য মিলারদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
মণিরামপুরে মোটা ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় এই অঞ্চল থেকে ধান সংগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে সরকার। গতবছর আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ছিল দুই হাজার চারশ’ টন এবং বোরো মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল চার হাজার টন। সেই তুলনায় এবার আমন সংগ্রহের লক্ষমাত্রা প্রায় তিনভাগের একভাগ; মাত্র ৮৭৭ টন।









































