ঢাকা অফিস
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮ জন। এদের মধ্যে ২২ জনই ষাটোর্ধ্ব। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা যাওয়া সাত হাজার ২৮০ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন তিন হাজার ৯৪৮ জন। শতকরা হিসাবে যা ৫৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। রোববার (২০ ডিসেম্বর) করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। বয়স বিবেচনায় মৃত্যু বিশ্লেষণে অধিদফতর জানায়, মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন এক হাজার ৮৬১ জন, যা ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৮৫৬ জন, যা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩৬৮ জন, যা পাঁচ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১৫৮ জন, যা দুই দশমিক ১৭ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৫৫ জন, যা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩৪ জন, যা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অপরদিকে, বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে অধিদফতর জানিয়েছে মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন তিন হাজার ৯৮১ জন, শতকরা হিসাবে যা ৫৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৩৫১ জন, যা ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ৪২৮ জন, যা পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ৫১৬ জন, যা সাত দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, যা তিন দশমিক ১৯ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ২৮৬ জন, যা তিন দশমিক ৯৩ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ৩২৭ জন, যা চার দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৯ জন, যা কিনা দুই দশমিক ১৮ শতাংশ। এদিকে দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৫৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেল। দেশে কভিডে মোট আক্রান্ত শনাক্ত এখন ৫ লাখ ৭১৩ জনের দাঁড়িয়েছে। দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানি দাঁড়াল ৭ হাজার ২৮০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত এক দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ১ হাজার ৯২৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৭ জন হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ওই মাসের শেষের দিক থেকে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে হার কমতে থাকে। তবে নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানানো হয় গত ৮ মার্চ। তা সাড়ে ৪ লাখ পেরিয়ে যায় ২৪ নভেম্বর। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১২ ডিসেম্বর তা ৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৩টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ১৮টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ২৯টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ১৬০টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৩১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩০ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০টি নমুনা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৫০৯ টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৬ লাখ ২৫ হাজার ১৭১টি।











































