ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তিনি খুলনা জেলায় বেশ আলোচিত একজন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন এলাকায় ফাটাকেষ্ট নামে পরিচিত। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় নমিনেশন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জড়িয়ে পড়ে বিতর্কিত সব কর্মকান্ডে। তার এ কর্মকার্ডের জন্য খোদ নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। বারাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী চেয়ারম্যানের বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন শুরু থেকেই। মেয়াদের প্রায় শেষ প্রান্ত এসেও নিজের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ও বিতর্কিত সব কর্মকান্ড থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি আলোচিত এই চেয়ারম্যান।
আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান হওয়ায় এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে বিব্রত স্থানীয় আওয়ামীলীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২০১৯ সালের ১১ আগষ্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি চাল চুরির অভিযোগে দিঘলিয়া থানায় মামলা হয়। যার মামলা নং-১০। এ ছাড়া ২০১৩ সালে আগষ্ট মাসে বারাকপুরে ঈদ মেলায় নাহিদ নামের কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়, বারাকপুর বাজারে মদ্যপ অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ব্যবসায়ীরা এঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেয়। তার বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অর্থ ও ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগও উঠে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দেয় । কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেগুলোর কোন তদন্ত হয়নি। বারাকপুর ভুমি অফিসের তালিকায় সরকারি খাস জমিতে পাকা ঘর নির্মান করা , সরকারি গাছ কেটে নিজ বাড়ির আসবাবপত্র তৈরী ও বিক্রয় , সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ী জোর পুর্বক দখল , সরকারি সার গোডাউন থেকে কোটি কোটি টাকার সার চুরি , নন্দনপ্রতাপ সরকারি খাল খনন এর নামে টাকা আত্মসাৎ , লাখোহাটি ফুটবল ময়দানে বালু ভরাটের নামে প্রজেক্ট দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ , মাধপপুর এলাকার বিবেক এর পুত্রবধু কে ২০১১ সালে স্থানীয় অন্ন’দের সহযোগিতায় ধর্ষণ সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগে ইউনিয়নবাসির সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ ১৯ মে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার বরাবার দেওয়া হয় । সর্বশেষ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রকরে গত ১২ ডিসেম্বর রাত ৯ টায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংকৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বারাকপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আনছার এর বাড়িতে বোমা ও গুলিবর্ষণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনার পর দিন আনছার শেখ এর পুত্র তানভির থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিলেও ১ দিন পর লিখিত অভিযোগ নেয় থানা পুলিশ । লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনকে আসামী করে অভিযোগ পত্রটি দাখিল করে। বারাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ –সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, জাকির হোসেন দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দলটিকে ধ্বংস করেছে। তার কাছে আ’লীগের নেতাকর্মীদের কোন স্থান নেই, সে বিএনপি ক্যাডার বাহিনিকে সাথে নিয়ে বারাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মিদের বিভিন্ন সময় অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে।
তার এসকল বিতর্কিত কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে বিএনপি-জামায়াত বলে আখ্যায়িত করেন এমনটি জানান প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান ।
নিজেকে আওয়ামী লীগ বললেও চেয়ারম্যান কাজ করেন বিএনপি- জামাত নিয়ে। দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান নজরুল ইসলামের কাছে ইউপি চেয়াম্যান গাজী জাকির এর বিরুদ্ধে বারাকপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের অবস্থান নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করে জননেত্রি শেখ হাসিনা গরীব দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষে কাজ করছে ,ঠিক তখন বিতর্কিত কিছু লোকের কারনে সেটা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে । অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন কিছু নয় । এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিষয়টা ভালো জানেন বলে এড়িয়ে যান তিনি । সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে একের পর এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরকার যখন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন ঠিক সে সময়েই সরকারি চাল চুরির ঘটনায় তার নামে মামলা হওয়ার পর আবার নতুন করে আলোচনায় আসেন এই চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় ফুসে উঠেছে স্থানীয়রা। চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে ইতিমধ্যে মহিলারা ঝাড়– মিছিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছেন । চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি চাল লোপাটের ঘটনা ও আওয়ামীলীগ নেতা আনছারের বাড়িতে বোমা ও গুলিবর্ষনের ঘটনায় ক্ষোভ এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের কাছে তার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বলেন অতিদ্রুত জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ এ সকল সমস্যার সমাধান না করে তাহলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরম মুল্য দিতে হবে।










































