৯৯৯ ফোন করে প্রানে রক্ষা
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলায় পুর্ব শত্রুতার জের ধরে একদল বখাটের হামলায় কৃষক পরিবারের চার জন গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাতে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজারে। ওই সময় নির্যাতিতদের পক্ষে একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগীতা চাইলে শরণখোলা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং একই রাতে আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষক ইয়াকুব হাওলাদার (৪৫) বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আঃ হালিম হাওলাদারের ছেলে বখাটে বাবু হাওলাদার কলেজে যাওয়া আসার পথে আমার মেয়েকে উত্তাক্ত শুরু করে। এ নিয়ে গত বছর উভয় পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে শরণখোলা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। এতে উভয় পরিবারের ২ জন হাজত বাস করে বাড়িতে আসেন। সেই ঘটনার জের মেটাতে (শুক্রবার) সন্ধ্যায় স্থানীয় রাজাপুর বাজারে আমার ছেলে রুমন হাওলাদার (২০) কে দেখে বাবু ও তার চাচাতো ভাই হাসান ব্যাপারী একজোট হয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রুমনের সাথে থাকা তার বন্ধু ও আমাদের প্রতিবেশি মিরাজ হাওলাদার (২১) মোবাইল ফোনে এ খবর জানালে আমি বাজারের দিকে রওয়ানা হই। ওই সময় হামলাকারীরা আমার উপর চড়াও হলে আমি পালিয়ে প্রানে রক্ষা পাই। পরবর্তীতে একই দিন রাত অনুমান ১১টার সময় হাসান ও বাবুর নেতৃত্বে ১০/১২টি মটর সাইকেল যোগে ২৫/৩০ জন বখাটে যুবক আমার বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে পিটিয়ে আমার বাম হাত ভেংঙ্গে দেয়, এ সময় আমার ছেলে রুমন ও স্ত্রী খাদিজা বেগম ও মিরাজ সহ অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধাড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা আমার বসত ঘর সহ কবরস্থান ও বহু মালামাল গুড়িয়ে দেয়। দিশেহারা হয়ে এক পর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। পরে পুলিশ আসার খবর শুনে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং থানা পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে তাদের সহয়তা ও আল্লাহর রহমতে প্রানে বেঁচে যাই। পাশাপাশি গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম পিঞ্জু ও রাজাপুর বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির সাধারন সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষক ইয়াকুবের পরিবারের উপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক বিচার হওয়া উচিত। তবে, হামলাকারীদের পক্ষে মো. হাসান ব্যাপারী দাবী করেন, এ ঘটনার সাথে তার কোন সর্ম্পক্ততা নাই এবং হামলাকারীদের তিনি চিনেন না। ওই পরিবারের লোকজন তার নামে বদনাম রটিয়েছেন মাত্র। এছাড়া শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তবে, অভিযোগ পেলে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।










































