Home আঞ্চলিক ভৈরব সেতুর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা র্নিমানকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে দুঃসংবাদ

ভৈরব সেতুর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা র্নিমানকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে দুঃসংবাদ

19

আসাদ, দিঘলিয়া প্রতিনিধি

যার একতলা বাড়ি আছে সে দুই/তিন দিনের মধ্যে দোতলা বাড়ি বানিয়ে ফেলছে, যার জমি আছে বড়ি নাই সে চার/পাঁচ দিনের মধ্যে বাড়ি বানাচ্ছে, আর যার জমি আছে কিন্তু বাড়ি তৈরি করার সক্ষমতা নাই সেখানে স্হানীয় বিত্তশালীরা চুক্তির মাধ্যমে বাড়ি তৈরি করছে, এই চিত্র দিঘলিয়ার নগরঘাট থেকে উপজেলা চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের।

দিঘলিয়া উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি স্বপ্নের ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে চলতি মাসে শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু না হলেও জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে এমন সংবাদে সেতুর পূর্বপাশে অর্থাৎ নগরঘাট থেকে উপজেলা চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত দুই পাশে স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সাম্প্রতি যাচাই-বাছাই শেষে ‘ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে। গত ১২ নভেম্বর বিষয়টি চুড়ান্ত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেতু নির্মাণের জন্য যে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তার ক্ষতিপূরন বাবদ ক্ষতিগ্রস্হরা তিনগুন টাকা পাবে, যার ফলে দিঘলিয়া এলাকার মানুষ জমি অধিগ্রহণের সময় তিনগুণ টাকা পাওয়ার আশায় দেদারছে নির্মাণ করছে বাড়ি-ঘর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার নগরঘাট থেকে উপজেলা চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে নিম্নমানের বাড়িঘর নির্মাণের ধুম পড়ে গেছে। অনেকে এক তলার পর দ্রুত গতিতে তিনতলা থেকে চারতলা করছে কোন ধরনের অনুমতি ছাড়া। আবার যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর করার টাকা নেই, একটি সিন্ডিকেট চক্র অধিগ্রহণের অর্ধেক টাকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে নিন্মমানের কাঁচা-পাকা ঘর করে দিচ্ছেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অনুমতি ছাড়াই এসব স্থাপনা তৈরির কারনে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা। তবে স্থানীয় প্রশাসন আইনের নিয়মে বাধা থাকায় কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এদিকে এলাকাবাসী জানায়, জমি অধিগ্রহনের সময় তিনগুণ টাকা পাওয়ার লোভেই ধার দেনা করে মানুষ স্থাপনা করছে।

ভৈরব সেতুটি নগরীর দৌলতপুর রেল স্টেশন থেকে দিঘলিয়া উপজেলা মোড়ে গিয়ে মিশবে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার এবং সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজে। সেতু নির্মাণে আন্যান্য ব্যায় সহ প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। এতে নদীর বাইরে অতিরিক্ত আরো ৬৯১ মিটার নির্মানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ওভারপাস বা সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

দিঘলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আলীমুজ্জান মিলন বলেন, দিঘলিয়া উপজেলায় ভৈরব নদীতে সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(এলএ), খুলনা ও ইউ এন ও, দিঘলিয়া স্যারের নির্দেশে এসব স্থাপনার স্থিরচিত্র ধারণ করে তালিকা করা হয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা না করার জন্য বলা হয়েছে। যারা অবৈধ স্থাপনা করছেন তারা কেউ ক্ষতিপূরণ পাবেন না।

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুল আলম বলেন, আমাদের কাছে জমি অধিগ্রহণের কোন কাগজপত্র আসেনি। যার ফলে আমরা অধিগ্রহণ প্রস্তাবিত এলাকায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে পারছি না। তবে এলাকাবাসী বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে এটা আমি জানি। আইনগত ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখনও হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, যেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে সেই সকল প্রস্তাবিত এলাকার ভিডিও এবং ছবি আমাদের কাছে আছে। সুতরাং টাকা বেশি নেওয়ার আশায় বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে কোন লাভ নেই।

অন্যদিকে দিঘলিয়া উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি ভৈরব সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার খবরে উপজেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে খুলনা নগরীর ওপর মানুষের চাপ কমে যাবে। নদীর ওপারে কলকারখানা স্থাপনসহ বসতি বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং দিঘলিয়া উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে খুলনা শহরে যেতে পারবে।