১৬ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় দুলাভাই কর্তৃক কিশোরী শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃতা ফারহানা তামান্না বর্ষা (১৫) নগরীর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় খানজাহান আলী থানায় দুলাভাইসহ ৫জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ গত ১৬ দিনেও অপহৃতা বর্ষাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ বছরের ১৮ জুন নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি পুর্বপাড়ার কাজী দিদারুল আলম ওরফে বাপ্পির মেয়ে আফসানা মিমি বৃষ্টির (২০) সঙ্গে পার্শর্¦বর্তী ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের রুহুল আমিন সরদারের ছেলে এস এম আলফাজ আহম্মেদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আলফাজ ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করার কথা জানায়। কিন্তু বিয়ের পরে জানা যায়, সে ভবঘুরে, বেকার এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি জানতে পেরে আফসানা মিমি বৃষ্টিকে তার মা বাড়িতে নিয়ে আসে। এ কারণে আলফাজ ফোনে তার স্ত্রী আফসানা মিমি বৃষ্টিকে না পাঠালে তার ছোট শ্যালিকা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ফারহানা তামান্না বর্ষার ক্ষতি করবে বলে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর ফারহানা তামান্না বর্ষা সকাল পৌঁনে ৯টায় কলেজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময়ে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, দুলাভাই আলফাজ সরদার, জুয়েল সরদার ও সোহাগ হোসেনসহ কয়েকজন শিরোমণি পুর্বপাড়া তেঁতুলতলা থেকে তাকে অপহরণ করে সিএনজিতে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত ১৯ নভেম্বর ফারজানা তামান্না বর্ষার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে জামাই ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের রুহুল আমিন সরদারের ছেলে আলফাজ আহম্মেদ সরদার (৩০), তার ভাই মো জুয়েল সরদার (৩৩), তাদের পিতা রুহুল আমিন সরদার, বড় ভাইয়ের স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম (২৫) এবং যশোর সদর থানার মো. সোহাগ হোসেনকে (৩৭) আসামি করে খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তার পিতা কাজী দিদারুল আলম বাপ্পি র্যাব-৬ বরাবরও লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু ঘটনার ১৬ দিন পার হতে চললেও তাকে উদ্ধার বা আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরদিকে, অভিযুক্ত আলফাজের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী আফসানা মিমি বৃষ্টিও বাদী হয়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে আদালতে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
অপহৃতা ফারহানা তামান্না বর্ষার পিতা কাজী দিদারুল আলম বাপ্পি অভিযোগ করেন, অপহরণের পর গত ১৬দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। পলাতক আসামিরা বিভিন্নভাবে তার বড় মেয়ে আফসানা মিমিসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ^াস বলেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামি আলফাজ সরদারের ছোট ভাই জুয়েল সরদারকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার ও অপহৃতাকে উদ্ধারের জোর জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।










































