Home আঞ্চলিক রামপালে কানুনগো আবুল বশারের ঘুষ-বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল, মামলা নিতে চিঠি

রামপালে কানুনগো আবুল বশারের ঘুষ-বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল, মামলা নিতে চিঠি

2

রামপাল প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারিতে ঘুষ-বাণিজ্যের কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

গোপন কিংবা প্রকাশ্যে এসব ঘুষ-বাণিজ্য যেন এখন ওপেন সিক্রেট। ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। আশপাশে ঘাপটি মেরে থাকা দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে হারাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, শ্রেণিভেদে নামজারিতে দিতে হয় বিশাল অঙ্কের টাকা।

রামপাল ভূমি অফিসের এসব ঘুষ-বাণিজ্যের চিত্র দীর্ঘদিনের। তবে এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী কঠোরহস্তে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি নামজারি করতে আসা এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কানুনগো মো. আবুল বশার নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা, যা ভিডিওতে ধারণ করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। এরপর জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়ে।

ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তীর নজরে আসলে গত ৬ আগস্ট কানুনগো মো. আবুল বশারের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিশ।

ওই নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে নিজ অফিস কক্ষে বসে নামজারি কেসের প্রতিবেদন প্রদানের বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে, যার ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড এবং ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওর তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ভিডিও ক্লিপের বিষয়ে নোটিশে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি সেবা প্রদানের বিনিময়ে উৎকোচ গ্রহণ করার দায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে মো. আবুল বশারের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত গঠন করে উপজেলা ভূমি অফিস।

পরে ১২ আগস্ট তথ্যসহ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযুক্ত কানুনগোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয় আরেকটি চিঠি। ওই চিঠির আলোকে গত ৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন অভিযুক্ত মো. আবুল বশারের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি জানিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর দিয়েছেন চিঠি।

তবে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও আলোচিত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। অন্যদিকে কানুনগোর উৎকোচ নেওয়া এই ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নামধারী কিছু সাংবাদিক নিয়েছেন বিশেষ সুবিধাও। বিষয়টি জানাজানিতে মূলধারার সাংবাদিক হচ্ছে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন।

এ বিষয়ে একাধিক ভূমি সেবাগ্রহীতারা জানান, সরকারি নিয়মের বাইরে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন কলাকৌশলে আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বড়ো অঙ্কের টাকা। এসব টাকা দিতে অপারগতা জানালে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধূম্রজাল। তখন বলা হয়, আমার কাগজে বিভিন্ন সমস্যা। তবে ওই একই আবেদনের ফাইল টাকা দিলে হয়ে যায় সব ঠিকঠাক।

তারা তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে আরও বলেন, আমরা শুনেছি এ চিঠিতে নাকি কানুনগোকে কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলাবলি করেন, ওপরে সব ম্যানেজ হয়ে গেছে। এসব ছোটোখাটো বিষয়। তার হাত অনেক লম্বা। দীর্ঘদিন দালালচক্র চুষে খাচ্ছে আমাদের। আমরা ঘুষখোর ওই কানুনগোর অপসারণ চাই, শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কানুনগো মো. আবুল বশারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কী বলব, আপনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে শোনেন বলেই ফোনকল কেটে দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি ঘটনার তিন দিন পর আমার কানে আসে। এরপর ওইদিনই আবুল বশারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিই এবং সেটি সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় জেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়েছি। আমি রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। যারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের কোনো পরিচয় নেই, তারা অপরাধী। আমি তাদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি ও নেব।