Home জাতীয় ব্যাংক এমডিদের কর্মমূল্যায়নে যে নির্দেশনা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংক এমডিদের কর্মমূল্যায়নে যে নির্দেশনা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

0

ঢাকা অফিস।।

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যাংক-কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) দায়-দায়িত্ব ও কর্মমূল্যায়নে একটি অভিন্ন নির্দেশক বা ‘কেপিআই ফ্রেমওয়ার্ক’ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী এমডি বা সিইও নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ হ্রাস, অবলোপনকৃত ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা নিয়োগ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা আনতে ১০০ নম্বরের (ওয়েটেজ) পাঁচটি মূল নির্দেশকের ভিত্তিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও, এলসিআর, এনএসএফআর ও এডিআর ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে আর্থিক সামর্থ্য মূল্যায়ন করা; খেলাপি ঋণের হার কমানো, শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার একক কেন্দ্রীভূত ঋণ কমানো এবং খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ উদ্ধারের অগ্রগতি যাচাই করা; প্রফিটেবিলিটি লেন্স বা রিটার্ন অন অ্যাসেটস, রিটার্ন অন ইকুইটি এবং ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার মূল্যায়ন; গভর্নেন্স ও ইন্টারনাল কন্ট্রোল লেন্স (২৫% ওয়েটেজ) বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন পরিপালন ও আইসিটি নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ডিজিটাল সেবার প্রসার, সিএমএসএমই, কৃষি ও গ্রিন ফাইন্যান্স ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহক সেবার মান মূল্যায়ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি নির্দেশকের নির্ধারিত লক্ষ্যের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জন করলে তবেই এমডি বা সিইও সংশ্লিষ্ট নির্দেশকে আনুপাতিক নম্বর পাবেন।

৫০ শতাংশের কম অর্জন করলে ওই কেপিআই-তে শূন্য নম্বর দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৬টি কেপিআই, যেমন: এডিআর, মোট খেলাপি ঋণ, নিট খেলাপি ঋণ, শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভূতকরণ, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায় এবং সিএমএসএমই ও কৃষি ঋণ প্রসারে ৫০ শতাংশের কম সাফল্য পেলে অর্জিত মোট নম্বর থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আনুপাতিক নম্বর কেটে নেওয়া হবে।

মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী তিন ভাগে এমডিদের কাজের মান নির্ধারণ করা হবে, ৭৫ বা তার বেশি পেলে ‘অ্যাভাব এভারেজ’ (স্ট্যান্ডার্ড মান), ৬৫ থেকে ৭৫ এর নিচে ‘এভারেজ’ এবং ৬৫ এর কম পেলে ‘বিলো এভারেজ’ বা নিম্নমানের কর্মদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিগত ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্সকে বেসলাইন ধরে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য অথবা এমডির বর্তমান মেয়াদের জন্য প্রতি ৬ মাস পরপর রোলিং ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে। বর্তমানে কর্মরত এমডিদের জন্য প্রথম মূল্যায়ন সময়সীমা হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত এই ফ্রেমওয়ার্ক ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি-২ বিভাগে জমা দিতে হবে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমডিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।