বিশেষ প্রতিনিধি।।
জনগণের ভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম ‘১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা’ পূরণ হতে বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। তবে সরকারের এই ছয় মাসের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকলেও বেশিরভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীই প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেননি। গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব সূত্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সম্ভাব্য পরিবর্তন ও নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতিতে জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ নেতা, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয়ে সকাল ৯টায় অফিস করা, সীমিত প্রটোকল ব্যবহার, ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকা এবং বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি ফান্ডে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। অন্যদিকে ‘কৃষক কার্ড’, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষিঋণ মওকুফ, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও হজ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য এলেও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রশাসনের পুনর্বিন্যাসে বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ের চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। এমনকি বেফাঁস মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সরকারকে ব্যাকফুটে ফেলেছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে একাধিক মন্ত্রণালয়ে রদবদল ও নতুন যোগ্য নেতাদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় নতুন যাদের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন রাকিবুল ইসলাম বকুল।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে খুলনার রাজনীতিতে সুপরিচিত এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতা হিসেবে রকিবুল ইসলাম বকুলের অন্তর্ভুক্তির খবর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে মন্ত্রিসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে এসে কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নে গতি আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রকিবুল ইসলাম বকুলের পাশাপাশি নতুনভাবে আলোচনায় আছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ড. মাহ্দী আমিনের মতো জ্যেষ্ঠ ও উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
তবে মন্ত্রিসভার এ বড় ধরনের রদবদলের আগে আগামী ২০ আগস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রস্তাব করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত করা এবং একাধিক দপ্তর ধরে রাখা মন্ত্রীদের দায়িত্ব হালকা করার প্রক্রিয়ার সঙ্গেই নতুনদের অর্ন্তভুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।










































