Home জাতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে গুম: শেখ হাসিনাসহ আসামি হচ্ছেন ৭ জন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে গুম: শেখ হাসিনাসহ আসামি হচ্ছেন ৭ জন

0

ঢাকা অফিস।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ শনিবার তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেল রানার জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি আরও বলেন, তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, গুমের পর ও উদ্ধারের আগে মাঝের ২ মাস সালাহউদ্দিন আহমদকে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়েছিল র‌্যাবের গোপন বন্দিশালার টিএফআই সেলে।

এর আগে, গত বছরের ৩ জুন শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শেখ হাসিনা ছাড়া বাকিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। সে সময় সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

সালাহউদ্দিনকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান। ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়। পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৬ দিন পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।