Home খেলাধুলা জাতীয় দলে খেলা নিয়ে যা জানালেন কোর্তোয়া

জাতীয় দলে খেলা নিয়ে যা জানালেন কোর্তোয়া

14


স্পোর্টস ডেস্ক।।

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা থামেনি। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে তিনি এখনই অবসর নিতে চান না। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নতুন প্রধান কোচ মার্ক ফন বোমেলের সঙ্গে তার আলোচনার ওপর।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের পরই দায়িত্ব শেষ হয় কোচ হুডি গাহসিয়ার। এরপর দ্রুতই নেদারল্যান্ডসের সাবেক তারকা মিডফিল্ডার মার্ক ফন বোমেলকে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত চুক্তিতে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

একটি স্পন্সরশিপ অনুষ্ঠানে কোর্তোয়া বলেন, ফন বোমেলের নিয়োগ তাকে অবাক করেনি। কারণ বেশ কিছুদিন ধরেই তার নাম আলোচনায় ছিল। অ্যান্টেয়ার্পে তার সফল কোচিং এবং খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা বেলজিয়াম দলের জন্য ইতিবাচক হবে বলেই মনে করেন তিনি।

কোর্তোয়া বলেন, ‘তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন একজন কোচ স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলারদের কাছ থেকে বাড়তি সম্মান পান। অনেক খেলোয়াড়ই তার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেন। আমিও তার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’

বিশ্বকাপের পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলকিপার। তার মতে, সামনে উয়েফা নেশন্স লিগে না খেলেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে চান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর অবশ্যই খেলতে চাই। তবে সেটা নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে। নেশন্স লিগে আমি কিছুটা বিশ্রাম নিতে চাই। আমরা যদি এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি, তারপর সিদ্ধান্ত নেব জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাব কি না।’

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৭১তম মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়ার ঘটনাটিও আবার ব্যাখ্যা করেছেন কোর্তোয়া। ম্যাচটিতে দুর্দান্ত খেললেও অস্বস্তির কারণে তাকে বদলি করা হয়। পরে তার বদলি সানা লমেন্সের ভুলে গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারে বেলজিয়াম।

কোর্তোয়া জানান, তিনি মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন। তার সমস্যা ছিল শুধু গোল কিক নেওয়া নিয়ে।

‘আমার মনে হচ্ছিল, শুধু গোল কিক নিতে পারব না। অন্য কোনো ডিফেন্ডার গোল কিক নিতে পারত। সাধারণ পাস দিতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।’

তবে কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

‘কোচ বলেছিলেন, শতভাগ ফিট খেলোয়াড়রাই মাঠে থাকবে। সিদ্ধান্তটা তখনই নেওয়া হয়েছিল।’

যদিও স্পেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় হতাশ ছিলেন, তবু সাবেক কোচের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেন কোর্তোয়া।

‘অবশ্যই হতাশ হয়েছিলাম, কারণ আমরা ভালো খেলছিলাম। কিন্তু দলের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল এবং আমাদের মধ্যে কখনো কোনো তিক্ততা ছিল না। আমি কখনোই কোচ সম্পর্কে খারাপ কিছু বলতে চাইনি।’

এখন বেলজিয়ামের নতুন যুগে কোর্তোয়ার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে মার্ক ফন বোমেলের সঙ্গে তার প্রথম আলোচনার ওপর। সেই বৈঠকের পরই পরিষ্কার হবে, জাতীয় দলের জার্সিতে অভিজ্ঞ এই গোলকিপারকে আরও কতদিন দেখা যাবে।