খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি।।
খুলনার মীরোরডাঙ্গা এলাকার দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও মাদক বাণিজ্যের অন্যতম হোতা এবং খানজাহান আলী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা এখন তার স্ত্রীর ‘চুরি যাওয়া’ চাকরি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিগত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের বিশেষ সুপারিশে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) চাকরি পেয়েছিলেন সেলিমের স্ত্রী। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যান চুরির মতো এক লজ্জাজনক অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়ে বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) অবস্থায় আছেন।
আর এই চুরির দায় থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে এবং চাকরিটি যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে এবার ভোল পাল্টে বিএনপির কয়েকজন নেতার দারে দারে মোটা অঙ্কের টাকার মিশন নিয়ে ধরনা দিচ্ছেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর ধরে মীরোরডাঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন খানজাহান আলী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা।
তার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্যাতনে মীরোরডাঙ্গার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া ও অতিষ্ঠ ছিলেন। মাদক কারবারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, কুয়েটসহ আশপাশের সরকারি দপ্তরের টেন্ডারবাজি এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির অলিখিত হর্তাকর্তা ছিলেন এই সেলিম। ক্ষমতার পালাবদলের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও, এখন নিজের আখের গোছাতে নতুন চাল চালছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের ডিও লেটার ও একক সুপারিশে কুয়েটে চাকরি বাগিয়ে নেন সেলিমের স্ত্রী। কিন্তু রক্তের টান আর স্বভাব যে বদলায় না, তার প্রমাণ মেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই। কুয়েটের ফ্যান চুরির মতো একটি জঘন্য ও নিন্দনীয় অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
বর্তমানে স্ত্রীর এই কলঙ্কিত চাকরি পুনর্বহাল করতে সেলিম রেজা বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতার টেবিল ম্যানেজ করার মিশনে নেমেছেন। অভিযোগ উঠেছে, একটি বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে তিনি বিএনপির ভেতরের কিছু সুবিধাবাদী অংশকে দিয়ে কুয়েত প্রশাসনে জোর তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করিয়েছেন।
দীর্ঘদিন রাজপথে মার খাওয়া এবং সেলিমের নির্যাতনে পিষ্ট হওয়া মীরোরডাঙ্গার তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে এই খবরটি জানাজানি হতেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, যে ছাত্রলীগ নেতা ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তার স্ত্রীর চুরির চাকরি বাঁচাতে এখন যারা টাকার বিনিময়ে দালালি ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা হবে। কোনো চোর ও ফ্যাসিবাদের দোসরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তৃণমূল তা রাজপথেই প্রতিহত করবে।










































