Home Lead খুলনায় বার বার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের মিছিল: ব্যর্থতা কার?

খুলনায় বার বার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের মিছিল: ব্যর্থতা কার?

121


স্টাফ রিপোর্টার।।


কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও খুলনায় বারবার ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গোপন ছক আঁকছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত ১৬ জুলাই নগরীর তিনটি স্পটে এবং ১৮ জুলাইয়ের ঝটিকা মিছিলের পর সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারির মধ্যেও কীভাবে বারবার এই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে? গোয়েন্দা তৎপরতার এই চরম গাফিলতি ও ব্যর্থতার দায় আসলে কার?


স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর যেখানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকাশ্য তৎপরতা থাকার কথা নয়, সেখানে খুলনার রাজপথে প্রায়ই তাদের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিষিদ্ধ দলের কর্মীরা আকস্মিক ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই সটকে পড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক অ্যাকশনের অভাবেই রাজপথে এরা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এটি স্পষ্টতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঝটিকা মিছিলগুলো হঠাৎ করে হচ্ছে না; এর পেছনে রয়েছে বিশাল অঙ্কের অর্থের জোগান ও সুক্ষ্ম পরিকল্পনা। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশ করা ৬০ জনের চাঞ্চল্যকর তালিকা অনুযায়ী, সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজন নেপথ্য থেকে অর্থ ও ভার্চুয়াল দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, গত ১৬ জুলাইয়ের মিছিলের মূল অর্থ জোগানদাতা সদর থানা যুবলীগের সদস্য ফাইজুল ইসলাম টিটো খোদ খুলনা নগরীতেই আত্মগোপন করে আছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় অর্থদাতারা প্রকাশ্যে ও ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারাটা আইনশৃঙ্খলার চরম শিথিলতাকেই নির্দেশ করে।


খুলনার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম স্থগিত থাকা দল যখন ৬০ জনের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে মাঠে নাশকতা ও মিছিলের নীল নকশা সাজায়, তখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেন আগে থেকে তা টের পায় না? মিছিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর বা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর তালিকা প্রকাশ করা কিংবা সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেওয়া মূলত ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’ প্রবাদের মতোই শোনায়। যদি পুলিশের নজরদারি সত্যিই শতভাগ সক্রিয় থাকত, তবে ফাইজুল ইসলাম টিটোর মতো চিহ্নিত অর্থদাতারা খুলনা শহরে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থেকে বারবার মিছিল নামানোর সাহস পেত না।


হঠাৎ করে নিষিদ্ধ এই দলটির নেতাকর্মীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা বলছেন, রাজপথে এদের এই আকস্মিক মহড়া যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংস সংঘাতের রূপ নিতে পারে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র অবশ্য দাবি করেছে, খুলনাকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের দাবি-শুধু মুখের আশ্বাস বা কাগুজে তালিকা নয়, রাজপথে এই নিষিদ্ধ শক্তির বারবার ফিরে আসার যে ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে, তার স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে মূল হোতাদের অবিলম্বে খাঁচায় বন্দি করতে হবে।