যশোর অফিস।।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উপকারভোগী বাছাইয়ে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের চার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ৭ জুন তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। এর আগে তাদের যশোর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৬ মে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য উপকারভোগী হিসেবে দুই হাজার ৪২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকর্মীদের মাধ্যমে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এর দুই দিন আগে ১৪ মে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) একটি প্রতিবেদন জমা হয়, যেখানে তালিকাভুক্তদের মধ্যে অন্তত ৬২ জনকে ‘সচ্ছল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এই কার্যক্রমে এনএসআই সংযুক্ত হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এই অসঙ্গতির কথা জানামাত্র সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালককে (ডিডি) অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ব্যর্থতাকে ‘গাফিলতি’ হিসেবে দেখে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এরপর ২১ মে সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেন এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিনকে সরিয়ে দেওয়া হয় (স্ট্যান্ড রিলিজ)।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ নয়, স্বাভাবিক বদলি করা হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, উল্লিখিত কর্মকর্তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ নাকি স্বাভাবিক বদলি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। অফিস অর্ডার না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অভিযোগের কারণে চার কর্মকর্তাকে প্রথমে গত ২১ মে বদলিপূর্বক স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। এরপর ৭ জুন তাদের বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আড়াই হাজার টাকা করে ঢুকেছে। ওই ৬২ নারীর মধ্যে ৪২ জন বিকাশ, ১৬ জন নগদ এবং চারজন ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবধারী। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ক্যাশ আউট হয়নি। ওই টাকা বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় আছে এবং বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
প্রসঙ্গত, ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতে যশোরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫৪ জন সমাজকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না তা এখনও জানা যায়নি।










































