Home আঞ্চলিক চোরের নাম-ঠিকানা মিললেও বাইক মেলেনি: ৭ দিনে ব্যর্থ পুলিশ

চোরের নাম-ঠিকানা মিললেও বাইক মেলেনি: ৭ দিনে ব্যর্থ পুলিশ

33


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা পাসপোর্ট অফিসের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও চোর গ্রেফতার বা বাইক উদ্ধার করতে পারেনি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্ধর্ষ সেই চোরের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও পুলিশের এমন রহস্যজনক গা-ছাড়া ভাব ও ৭ দিনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩ জুন (বুধবার) সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আতিয়ার রহমান পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে খুলনা পাসপোর্ট অফিসে যান। তিনি তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস ৪ভি (TVS 4V) মোটরসাইকেলটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: খুলনা মেট্রো-ল-১২-৯৭১১) অফিসের মূল ফটকের সামনে লক করে ভেতরে প্রবেশ করেন। এক ঘণ্টা পর বাইরে এসে দেখেন তাঁর শখের বাইকটি উধাও। এই ঘটনায় তিনি সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৫, তারিখ: ০৩-০৬-২০২৬) দায়ের করেন।


সিসিটিভি ফুটেজে চোর ‘সবুজ’ শনাক্ত:
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতাকে শনাক্ত করা গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে হেলমেট পরিহিত এক ব্যক্তি এসে আতিয়ার রহমানের বাইকের মাস্টার লক কৌশলে খুলে দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এর কিছুক্ষণ পরই ঘিয়ে রঙের টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক এসে লক খুলে রাখা মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।


অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঘিয়ে রঙের টি-শার্ট পরিহিত ওই চোরের নাম সবুজ, যার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায়। সে দীর্ঘদিনের পেশাদার মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। মাত্র তিন মাস আগেও একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়ে সে আবারও খুলনায় এই চুরির রাজত্ব কায়েম করেছে।


শ্যামনগর ডিবি পুলিশের চিরুনি অভিযান ও পূর্ব ইতিহাস
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চোর সবুজকে এর আগেও একাধিকবার চুরির মালের সোর্সসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ডিবি পুলিশের চৌকস কর্মকর্তা লাভলু। এই চোর সিন্ডিকেটের আদ্যোপান্ত ও তাদের গোপন আস্তানাগুলোর সমস্ত রেকর্ড শ্যামনগর ডিবির এই কর্মকর্তার নখদর্পণে রয়েছে।


পুলিশের ৭ দিনের ব্যর্থতা ও ভুক্তভোগীর আকুতি
মামলা দায়েরের পর ৭ দিন পার হয়ে গেলেও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ চোর সবুজকে গ্রেফতার কিংবা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে পারেনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সিসিটিভি ফুটেজের এই যুগে চোরের নাম, ঠিকানা ও পূর্বের অপরাধের রেকর্ড থাকার পরও পুলিশের এই মন্থর গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী আতিয়ার রহমান তাঁর একমাত্র সম্বল মোটরসাইকেলটি ফিরে পেতে এবং চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি উক্ত মোটরসাইকেলটির (খুলনা মেট্রো-ল-১২-৯৭১১) সন্ধান পেয়ে থাকেন, তবে নিকটস্থ থানা অথবা ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।