Home আঞ্চলিক শিবিরের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা-হট্টগোল, অবরুদ্ধ জেলার নেতারা

শিবিরের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা-হট্টগোল, অবরুদ্ধ জেলার নেতারা

0


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হট্টগোল ও জেলা নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ শাখার সভাপতির দায়িত্ব স্থগিত করা এবং কয়েকজন নেতাকর্মীর সদস্যপদ নিয়ে অসন্তোষের জেরে সম্প্রতি উত্তর ও দক্ষিণ শাখার একাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

এর ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের লক্ষ্যে সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় যান জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি, অর্থ সম্পাদক ও মাদ্রাসাবিষয়ক সম্পাদক। তবে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কয়েক দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক ও স্থানীয় নেতা মাহাবুবুল আলম। তবে প্রথম দিকে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ জেলা নেতাদের সেখান থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।

উত্তর (দেবহাটা) শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের শাখার ১০ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। জেলা কমিটি আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই তা গ্রহণ করেছে। পরে বুধবার নতুন কমিটি গঠনের জন্য আসে। জেলা সভাপতি নিজের খেয়ালমতো কাজ করছেন। আমরা জেলা সভাপতির পদত্যাগ চাই।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন স্বেচ্ছায় অভ্যন্তরীণভাবে কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়। পরে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের জন্য জেলা সেক্রেটারির নেতৃত্বে নেতারা সেখানে গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা নেতারা সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।’

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা শিবিরের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ নিয়ে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ঈদের পর বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান হয়ে যাবে।’

দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, ‘বাৎসরিক সেটিং ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকেই বাদ পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে তারা বাধা দিয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। এরপর অবরুদ্ধরা ফিরে গেছেন।’