Home আঞ্চলিক একই সড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রকল্প, কাজের চিহ্ন নেই

একই সড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রকল্প, কাজের চিহ্ন নেই

6


ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।


খুলনার ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার এলাকায় সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নেওয়া এসব প্রকল্পে সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল তোলা হলেও বাস্তবে বেশির ভাগ কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দে চুকনগর বাজার এলাকায় সাতটি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার মতো কাজ করা হলেও কাগজে-কলমে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাব দেখানো হয়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের নামে একই স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক প্রকল্প দেখানো হয়েছে। বাস্তবে কোথাও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজের আলামত নেই। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও আড়ালে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


চুকনগর বাজারের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী হামিদ আলী শেখ বলেন, ‘কাগজে-কলমে উন্নয়নের উৎসব চললেও বাস্তবে বাজার এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। জনস্বার্থের টাকা লুটপাট মেনে নেওয়া কষ্টের।’

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও চুকনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও দুটি ভুয়া প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি রাজুর পানের দোকান থেকে আশিষ কর্মকারের দোকান পর্যন্ত এবং অন্যটি আশিষ কর্মকারের দোকান থেকে পবনের চায়ের দোকান পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন। প্রতিটি প্রকল্পে দুই লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি তাঁর।


আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চুকনগর বাজার তহশিল অফিস থেকে শেখ শামিমের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র চুকনগর। এখানে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহির অভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।’
সংশ্লিষ্ট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মালি বলেন, ‘আমি ওই ওয়ার্ডের মেম্বার হলেও প্রকল্পগুলোর বিষয়ে কিছু জানি না। চেয়ারম্যান নিজেই তদারকি করেছেন।’


অভিযোগের বিষয়ে আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কিছু কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে এবং কিছু কাজ পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। আপনারা এসে ফাইলপত্র দেখতে পারেন।’ তবে প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি কিংবা কাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা লুটপাট করা যাবে না। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করা হবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’